বোনকে কবরে রেখেও নিস্তার নেই! ১৯ হাজার টাকার জন্য কঙ্কাল কাঁধে সেই জীতুর জীবনে ফিরল সুদিন

বোনকে কবরে রেখেও নিস্তার নেই! ১৯ হাজার টাকার জন্য কঙ্কাল কাঁধে সেই জীতুর জীবনে ফিরল সুদিন

ওড়িশার বাসিন্দা জীতু মুণ্ডার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। নিজের মৃত বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা মাত্র ১৯ হাজার ৪২ টাকা তুলতে চরম অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। অভিযোগ ওঠে, বোনের মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে সশরীরে বোনকে হাজির করতে বলে। নিরুপায় ও শোকাতুর জীতু বাধ্য হয়ে কবর থেকে বোনের কঙ্কাল তুলে কাঁধে নিয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে ব্যাংকে পৌঁছান। জীতুর এই অসহায়ত্বের ছবি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

বিপুল আর্থিক সহায়তা ও মানবিকতার নজির

জীতুর এই চরম দুর্দশার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সমবেদনার ঢেউ বয়ে যায়। ব্যাংক ম্যানেজার কঙ্কাল আনার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও জীতুর দাবি ছিল অনড়। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জীতুর জীবন নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এডুটেক প্ল্যাটফর্ম ‘ফিজিক্স ওয়ালা’-র সিইও অলখ পাণ্ডে জীতুকে ১০ লক্ষ টাকার বিশাল আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া রাজস্থানের কৃষিমন্ত্রী কিড়োরি লাল মিনা তাঁর এক মাসের বেতন জীতুর হাতে তুলে দিয়েছেন।

শোকের জীবনে স্বস্তির ছোঁয়া

বর্তমানে জীতু মুণ্ডা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার বেশি আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও তাঁর বোনের অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা সুদসহ ফেরত দিয়েছে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর বোনই ছিল জীতুর শেষ সম্বল। বোনের স্মৃতি আঁকড়ে থাকা এই নিঃস্ব মানুষটি এখন কিছুটা হলেও অর্থনৈতিক সচ্ছলতার মুখ দেখছেন। তবে এই ঘটনা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংবেদনশীলতা এবং গ্রামীণ মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • ওড়িশার জীতু মুণ্ডা ১৯ হাজার টাকা তুলতে মৃত বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে হাজির হন।
  • অমানবিক এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে ১৫ লক্ষ টাকার বেশি সহায়তা পান তিনি।
  • ফিজিক্স ওয়ালার সিইও অলখ পাণ্ডে একাই ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে জীতুর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
  • ব্যাংক কর্তৃপক্ষও জীতুর বোনের গচ্ছিত টাকা সুদসহ ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *