না আছে গাড়ি, না আছে সোনা! কোটিপতি নন, লক্ষ্য টাকার ‘সাধারণ’ জীবন বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

না আছে গাড়ি, না আছে সোনা! কোটিপতি নন, লক্ষ্য টাকার ‘সাধারণ’ জীবন বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

শনিবার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক এই পালাবদলের আবহে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তাঁর জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত সম্পদ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হাই-প্রোফাইল নেতার তকমা থাকলেও শুভেন্দু অধিকারীর জীবনযাত্রা আর পাঁচজন মধ্যবিত্ত বাঙালির মতোই সাদামাটা। তাঁর সম্পত্তির খতিয়ানে কোনো আকাশছোঁয়া বিলাসিতার চিহ্ন নেই।

গাড়ি ও গয়নার অনুপস্থিতিতে চমক

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৮৫ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রভাবশালী নেতার নিজের নামে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি বা যানবাহন নেই। এমনকি নেই কোনো সোনা বা বহুমূল্য অলঙ্কার। যেখানে রাজনীতিকদের হাতে মোটা অঙ্কের নগদ টাকা থাকা স্বাভাবিক, সেখানে তাঁর হাতে রয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য তিনি বেশ দূরদর্শী; ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট ও কিষাণ বিকাশ পত্রের মতো সরকারি প্রকল্পে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে।

স্থাবর সম্পত্তি ও আয়ের উৎস

শুভেন্দুর স্থাবর সম্পত্তির সিংহভাগই অবস্থিত তাঁর গড় পূর্ব মেদিনীপুরে। নন্দীগ্রামে কৃষি জমি, তমলুকে ফ্ল্যাট এবং পৈতৃক বাড়ি মিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য ৬১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার কিছু বেশি, যার মূল উৎস বিধায়ক হিসেবে প্রাপ্ত বেতন ও সাংসদ হিসেবে পাওয়া পেনশন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তাঁর মাথার ওপর কোনো ঋণের বোঝা নেই।

বিলাসবহুল জীবনযাপনের পরিবর্তে এই পরিমিত সম্পদের খতিয়ান জনমানসে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রীর এই জৌলুসহীন ভাবমূর্তি সাধারণ ভোটারদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ক্ষমতার শীর্ষে বসেও ব্যক্তিগত জীবনে এমন সংযম রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • শুভেন্দু অধিকারীর মোট ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ৮৫ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা।
  • নিজের নামে কোনো গাড়ি বা সোনার গয়না নেই, হাতে নগদ মাত্র ১২ হাজার টাকা।
  • স্থাবর সম্পত্তির বড় অংশ নন্দীগ্রাম ও তমলুকে এবং তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ঋণ নেই।
  • বার্ষিক আয় ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা, যার প্রধান উৎস বেতন ও পেনশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *