ব্রহ্মাস্ত্রের শক্তি ভারতের হাতে! একই সঙ্গে একাধিক টার্গেট ধ্বংস করবে এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তির অগ্নি-৫

ব্রহ্মাস্ত্রের শক্তি ভারতের হাতে! একই সঙ্গে একাধিক টার্গেট ধ্বংস করবে এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তির অগ্নি-৫

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। ওড়িশা উপকূলের ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে শনিবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘অগ্নি-৫’ মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল (MIRV) প্রযুক্তি সমৃদ্ধ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ৫,০০০ কিলোমিটার দূরের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এই অভাবনীয় সাফল্যের মধ্য দিয়ে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের এলিট ক্লাবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করল ভারত।

অজেয় শক্তি ও এমআইআরভি প্রযুক্তির কারিশমা

সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র কেবল একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারলেও, এমআইআরভি প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো এটি একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে কয়েকশ কিলোমিটার ব্যবধানে থাকা ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বা অস্ত্র পৌঁছে দিতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শত্রুদেশের মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম বা ইন্টারসেপ্টরগুলোর পক্ষে ভারতের এই আক্রমণ রুখে দেওয়া প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়বে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

স্বদেশি প্রযুক্তি ও নারীশক্তির জয়গান

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অগ্নি-৫ মিসাইলে অত্যন্ত উচ্চমানের সেন্সর প্যাকেজ এবং অ্যাভিওনিক্স ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অন্যতম বিশেষ দিক হলো এতে ভারতের নারী বিজ্ঞানীদের অসামান্য অবদান। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (DRDO) অধীনে পরিচালিত এই মিশনে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন মহিলা বিজ্ঞানীরা, যা দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নারীশক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে ফুটিয়ে তুলেছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভারতের পরমাণু নীতি

৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। অগ্নি-১ থেকে অগ্নি-৪ পর্যন্ত পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর সফল ধারাবাহিকতায় অগ্নি-৫ এখন ভারতের তুরুপের তাস। তবে এই বিপুল সামরিক শক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ভারত তার ২০০৩ সালের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা ‘প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার’ নীতিতে অনড় রয়েছে। এই সফল পরীক্ষা মূলত শত্রুদেশকে ভারতের পাল্টা আঘাত হানার ভয়াবহ সক্ষমতা সম্পর্কে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই পরিচালিত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *