ডবল ইঞ্জিন সরকারের ম্যাজিক, শপথের দিনেই বাংলার জন্য খুলে গেল দিল্লির রাজকোষ!

শনিবার ব্রিগেডে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করতেই কেন্দ্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আর্থিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটার ইঙ্গিত মিলেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে আটকে থাকা ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের বকেয়া বরাদ্দ হিসেবে ২৭০০ কোটি টাকা ছাড়ার সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দ্রুত আর্থিক বরাদ্দ রাজ্যের উন্নয়নের চাকা সচল করতে নতুন সরকারের জন্য এক বড় অক্সিজেন হিসেবে কাজ করবে।
জল জীবন মিশনের থমকে থাকা কাজে গতির সঞ্চার
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সচিবের সঙ্গে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের সচিবের বৈঠকের পর বকেয়া অর্থ ছাড়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। গত ১৮ থেকে ২৪ মাস ধরে পদ্ধতিগত ও রাজনৈতিক জটিলতায় এই প্রকল্পের টাকা আসা বন্ধ ছিল, যার ফলে গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে একটি সমঝোতা স্মারক বা মৌ (MoU) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে এবং খসড়া চুক্তিটি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ২৭০০ কোটি টাকা হাতে এলে থমকে থাকা জল প্রকল্পের কাজগুলো পুনরায় দ্রুত গতিতে শুরু হবে, যা সরাসরি প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় বদল ও আয়ুষ্মান ভারতের পদধ্বনি
আর্থিক বরাদ্দের পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতেও আমূল পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ রাজ্যে কার্যকর করার লক্ষ্যে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই বিমা প্রকল্প কার্যকর করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যবাসীরা যেমন উন্নত স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন, তেমনি বর্তমান স্বাস্থ্য প্রকল্পের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সংযুক্তিকরণ বা রদবদল ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এই আর্থিক ও প্রশাসনিক তৎপরতার নেপথ্যে প্রধান কারণ হলো রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রতিষ্ঠা। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সমন্বয়হীনতা দূর হওয়াতেই এই বকেয়া বরাদ্দ দ্রুত প্রাপ্তি সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও জনহিতকর প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুততর হবে। বিশেষ করে পানীয় জল ও স্বাস্থ্য খাতের এই সংস্কার নতুন সরকারের প্রতি জনমানসে আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথকে প্রশস্ত করবে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।