বিজেপি রুখতে বাম-অতিবামদের ডাক মমতার, ইন্টারনেট কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে তোলপাড়!
শনিবার একদিকে যখন ব্রিগেডের ময়দানে ঘটা করে বিজেপির প্রথম সরকার শপথ নিচ্ছে, ঠিক তখনই কালীঘাটের বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের মঞ্চ থেকে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে বিজেপির উত্থানকে ‘সন্ত্রাসের বজ্রপাত’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি এখন গেরুয়া শিবিরকে রুখতে বাম ও অতিবাম শক্তির সঙ্গে হাত মেলাতেও কুন্ঠিত নন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই প্রস্তাব রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে পুরনো শত্রুতা ভুলে নতুন এক ‘মহাজোট’ গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাম-অতিবামদের জোটের ডাক ও ‘ইগো’ ত্যাগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অত্যন্ত সোজাসাপ্টা ভাষায় জানান যে, বিজেপিকে প্রতিহত করতে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ‘ইগো’ বা অহং নেই। তিনি বামপন্থী, অতিবামপন্থী এবং অন্যান্য জাতীয় দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন:
“আপনারা যদি বলেন লেফটিস্ট, আমার কোনও ইগো নেই। আমি সবাইকে নিয়েই চলতে চাই। আজ যা অবস্থা, তাতে যদি বিজেপিকে রুখতে হয়, তাহলে লেফটিস্ট সবাইকে, আল্ট্রা-লেফট সবাইকে… আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস আমরা কথা দিচ্ছি, যার যতটুকু শক্তি আছে, আমরা জোট বাঁধব।”
এমনকি আলোচনার জন্য তিনি সময়ও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি জানান যে, যে কেউ কথা বলতে চাইলে বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যে তাঁর অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।
ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ
এদিন ভাষণের এক পর্যায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাঁর ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন যে, ফোন আসা-যাওয়া বন্ধ হওয়ায় বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। যদিও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে কারও দয়ায় তিনি থাকতে চান না, তবে সৌজন্যের খাতিরে অন্তত এক ঘণ্টা আগে জানানো উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
সন্ত্রাস ও অরাজকতার অভিযোগ
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় বসার পর থেকেই রাজ্যে ‘লুম্পেনগিরি’ এবং ‘গুন্ডামি’ শুরু হয়েছে। তাঁর এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কুরুচিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, বর্তমানে রাজ্যে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতে সকল বিরোধী দলের একজোট হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
এই রাজনৈতিক প্রস্তাবের পর এখন নজর বাম ও অতিবাম শিবিরের প্রতিক্রিয়ার দিকে। দীর্ঘদিনের তিক্ততা কাটিয়ে তারা কি মমতার এই আহ্বানে সাড়া দেবে, নাকি রাজ্যের রাজনীতিতে তৃতীয় কোনও মেরুর জন্ম হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
আপনার কি মনে হয়, বাম ও তৃণমূলের এই সম্ভাব্য জোট কি বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে?