আয় বুঝে ব্যয় না করলে বিপদ, ইউপিআই ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে কড়া নজরদারি আয়কর দপ্তরের!

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল পেমেন্ট বা অনলাইন লেনদেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইউপিআই (UPI) এবং ক্রেডিট কার্ডের সহজলভ্যতা লেনদেনের ধরনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। তবে এই স্বাচ্ছন্দ্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি। সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, কোনো ব্যক্তির বার্ষিক আয়ের তুলনায় খরচের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি হলে তাকে আয়কর দপ্তরের কঠোর জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হতে পারে।
নজরদারিতে বার্ষিক তথ্য বিবরণী বা এআইএস
১৯৬১ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার তার তথ্য-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে। বর্তমানে ব্যাংক এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের লেনদেনের তথ্য সরাসরি সরকারকে প্রদান করে। এই সমস্ত তথ্য একজন করদাতার ‘অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট’ বা এআইএস (AIS)-এ নথিভুক্ত থাকে। আয়কর রিটার্নে (ITR) প্রদর্শিত আয়ের সাথে যদি এই ব্যয়ের অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে, তবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে নোটিশ বা সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে।
সতর্কতা ও করণীয়
যাঁরা নিয়মিত বড় অঙ্কের ডিজিটাল লেনদেন করেন, তাঁদের জন্য নিয়মিতভাবে আয়কর দপ্তরের পোর্টাল থেকে এআইএস যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কোনো ক্ষেত্রে যদি ঋণ, উপহার কিংবা পূর্বের জমানো সঞ্চয় থেকে বড় কোনো খরচ করা হয়, তবে তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে রাখা বাধ্যতামূলক। নতুবা আয়ের সাথে ব্যয়ের অমিল থাকলে সেটিকে ‘অঘোষিত আয়’ হিসেবে গণ্য করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে আয়কর বিভাগ। যথাযথ নথিপত্র ও স্বচ্ছতা বজায় রাখলে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব।