নতুন লেবার কোড চালু: কমবে হাতের বেতন, বাড়বে ছুটি! আপনার পকেটে কী প্রভাব পড়বে?

নতুন লেবার কোড কার্যকর হওয়ায় বদলে যাচ্ছে সাধারণ চাকুরিজীবীদের বেতন কাঠামো ও কর্মসংস্কৃতি। শ্রম সংস্কারের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রবর্তিত এই চারটি নতুন নিয়ম কর্মক্ষেত্রে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি কর্মীদের সঞ্চয় ও জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে।
হাতে পাওয়া বেতন কমলেও বাড়বে সঞ্চয়
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মীর মূল বেতন বা বেসিক স্যালারি অবশ্যই তাঁর মোট সিটিসি-র (CTC) অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে। এর ফলে কর্মীদের হাতে পাওয়া মাসিক বেতনের (Take-home salary) পরিমাণ কিছুটা কমলেও প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) ও গ্র্যাচুইটির মতো দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এটি মূলত অবসরের পর কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ।
ছুটি ও কর্মঘণ্টার নতুন সমীকরণ
নতুন শ্রমনীতিতে কাজের সময় ও সাপ্তাহিক ছুটির বিষয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে সপ্তাহে মোট কর্মঘণ্টার সীমা ৪৮ ঘণ্টা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সংস্থাগুলো চাইলে সপ্তাহে ৪ দিন কাজের নিয়ম চালু করতে পারবে, তবে সেক্ষেত্রে কর্মীদের টানা ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটি দিতে হবে। এছাড়া, বছরে কোনো কর্মী ১৮০ দিন কাজ করলেই তিনি অর্জিত ছুটির (Earned Leave) অধিকারী হবেন। অতিরিক্ত সময় বা ওভারটাইম কাজের ক্ষেত্রে কর্মীদের সাধারণ হারের তুলনায় দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দিতে হবে।
নারীদের সমানাধিকার ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা
শ্রম সংস্কারের এই নতুন অধ্যায়ে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য খুশির খবর রয়েছে। এখন থেকে পাঁচ বছর নয়, বরং মাত্র এক বছর একটানা কাজ করলেই কর্মীরা গ্র্যাচুইটি পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। পাশাপাশি লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে নারী ও পুরুষ উভয়কেই সমান কাজের জন্য সমান বেতন দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নারীদের রাতের শিফটেও (সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা) কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই আমূল পরিবর্তনের ফলে শিল্পক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বাড়ার পাশাপাশি কর্মীদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হাতে পাওয়া বেতন কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে কিছুটা টান পড়তে পারে।