“আগে রাহুলকে নেতা মানুন, তারপর জোট!” মমতাকে চরম হুঁশিয়ারি অধীরের

“আগে রাহুলকে নেতা মানুন, তারপর জোট!” মমতাকে চরম হুঁশিয়ারি অধীরের

লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলায় ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সমীকরণ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপি বিরোধী জোটের ডাককে কেন্দ্র করে এবার আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মমতার রাজনৈতিক সততা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে অধীর চৌধুরী সাফ জানিয়েছেন, রাহুল গান্ধীকে জোটের নেতা হিসেবে স্বীকার না করা পর্যন্ত তৃণমূলের সঙ্গে কোনো আলোচনার পথ খোলা নেই।

মমতাকে চক্রান্তকারী তকমা ও নেতৃত্বের লড়াই

অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বাংলায় কংগ্রেস এবং বামপন্থী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমানে রাজনৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলার কারণেই মমতা এখন সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন। বহরমপুরের বিদায়ী সাংসদ মনে করেন, তৃণমূল নেত্রী একদিকে জাতীয় স্তরে ঐক্যের কথা বলছেন, অন্যদিকে বাংলায় বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার চক্রান্ত চালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে জোটের শর্ত হিসেবে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি, যা হাইকম্যান্ডের প্রতিও এক বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

বামেদের আক্রমণ ও জোটের ভবিষ্যৎ

তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম নেতৃত্বও। সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপি বিরোধী ভাবমূর্তিকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, বাংলায় বিজেপির উত্থানের প্রধান কারিগর তৃণমূল নেত্রী নিজেই। অতীতের ‘ন্যাচারাল অ্যালাই’ মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বামেদের দাবি, জাতীয় স্তরে যখনই বিজেপি বিরোধী ঐক্য গড়ার চেষ্টা হয়েছে, তখনই মমতা তাতে ফাটল ধরানোর কাজ করেছেন।

প্রভাব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রাজ্যে বাম-কংগ্রেস নেতৃত্বের এই অনমনীয় মনোভাব তৃণমূলের সঙ্গে আসন রফাসফায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলে রাজ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে, যা প্রকারান্তরে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে জাতীয় স্তরের বিজেপি বিরোধী জোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *