তামিলনাড়ুতে বিজয়ের শপথ গ্রহণ, কংগ্রেসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। অভিনেতা সি. জোসেফ বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত করে তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজয়কে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি কংগ্রেস ও ডিএমকে-র পুরনো মিত্রতা নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। বেঙ্গালুরুতে বিজেপি কর্মীদের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস একটি ‘বিশ্বাসঘাতক’ দল যারা ক্ষমতার লোভে নিজেদের দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকে-র পিঠে ছুরি মেরেছে।
ডিএমকে-কে কংগ্রেসের প্রতারণা ও রাজনৈতিক সমীকরণ
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, গত দুই থেকে তিন দশক ধরে কংগ্রেস ও ডিএমকে-র মধ্যে অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে ২০১৪ সালের আগে টানা দশ বছর কেন্দ্রে কংগ্রেসের ক্ষমতায় থাকার পেছনে ডিএমকে-র বড় ভূমিকা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ডিএমকে বারবার কংগ্রেসকে রাজনৈতিক সংকট থেকে উদ্ধার করলেও সময় আসতেই কংগ্রেস তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস এখন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নতুন কোনো আশ্রয়ের সন্ধান করছে। ডিএমকে-র মতো বিশ্বস্ত সঙ্গীকে তারা রাজনৈতিক বাতাবরণ বদলানোর সাথে সাথেই ত্যাগ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অস্থিতিশীলতা ও রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যৎ
কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটক ও কেরালা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কর্ণাটকের সরকার জনসেবার বদলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতেই বেশি ব্যস্ত। এমনকি সেখানে মুখ্যমন্ত্রী কতদিন গদিতে থাকবেন, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ছত্তিশগড় ও রাজস্থানের উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, কেরালাতেও কংগ্রেস একই ধরনের প্রতারণার জাল বুনছে।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদী গঠনমূলক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাজ্যের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের শপথের দিনে কংগ্রেস ও ডিএমকে-র দূরত্ব নিয়ে মোদীর এই মন্তব্য দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।