তামিলনাড়ু বিধানসভায় সম্পদের পাহাড়, দ্বিতীয় ধনী বিধায়ক হিসেবে চমক বিজয় থালাপতির

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী তথা জনপ্রিয় অভিনেতা ‘থালাপতি’ বিজয়। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR) এবং তামিলনাড়ু ইলেকশন ওয়াচ-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সম্পদের নিরিখেও বিজয় এখন বিধানসভার শীর্ষস্থানীয়দের অন্যতম। ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী ২৩৩ জন বিধায়কের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিজয় বর্তমানে রাজ্যের দ্বিতীয় ধনী বিধায়ক।
হলফনামা অনুযায়ী বিজয়ের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৬৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৪২৬.২০ কোটি টাকা এবং অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২২২.৬৫ কোটি টাকা। বিশেষত, গত অর্থবর্ষে ১৮৪ কোটি টাকা আয় করে তিনি নতুন বিধায়কদের মধ্যে আয়ের নিরিখে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছেন।
শীর্ষে লিমারোজ মার্টিন ও বিধায়কদের গড় সম্পদ বৃদ্ধি
বিজয়ের বিপুল সম্পদ থাকলেও তালিকার শীর্ষে রয়েছেন এআইএডিএমকে বিধায়ক লিমারোজ মার্টিন। লালগুডি কেন্দ্র থেকে বিজয়ী এই বিধায়কের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা, যা বিজয়ের তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ বেশি। মার্টিনের এই সম্পদ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রায় বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
প্রতিবেদনে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ২০২১ সালের তুলনায় তামিলনাড়ু বিধানসভার বিধায়কদের গড় সম্পদ অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই গড় ১২.২৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮.৩৫ কোটি টাকায়, যা প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। বর্তমানে ২৩৩ জন বিধায়কের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিজয়ের এই আর্থিক অবস্থান এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান—উভয়ই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে একমাত্র ‘পাওয়ার সেন্টার’ হিসেবে ঘোষণা করে তাঁর রাজনৈতিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একজন মহাতারকা থেকে প্রশাসনিক প্রধান হওয়ার এই যাত্রায় তাঁর বিপুল আর্থিক সামর্থ্য এবং ব্যক্তিগত ইমেজ রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।