আরজি কর আবহে মমতার সরকার ফেলার ছক কষেছিলেন অভিষেক! কোহিনুরের দাবিতে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের সুপ্ত অসন্তোষ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। দলের সাসপেন্ডেড মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদারের সাম্প্রতিক দাবি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কোহিনুরের অভিযোগ, আরজি কর আন্দোলনকে হাতিয়ার করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ফেলে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব সামনে আসতেই জোড়াফুল শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্ব সংকট প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
কর্পোরেট সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের দূরত্ব
কোহিনুর মজুমদারের দাবি অনুযায়ী, গত চার বছরে তৃণমূলের চিরাচরিত রাজনৈতিক চরিত্র আমূল বদলে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের দল থেকে এটি একটি ‘কর্পোরেট সংস্থায়’ পরিণত হয়েছে, যার কারিগর স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, দলের পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব কমিয়ে এখন ‘দক্ষিণা’ ও ‘নৈবেদ্য’ তথা অর্থের বিনিময়ে নৈকট্য লাভের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। সাধারণ কর্মী বা নিচুতলার নেতাদের জন্য ক্যামাক স্ট্রিটের দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেও তিনি সরব হয়েছেন। এমনকি দলের পদ বণ্টন বা প্রার্থী পদের ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন এই সাসপেন্ডেড নেতা।
অন্তর্ঘাতের অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাব
প্রতিবেদনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হলো আরজি কর ইস্যু। কোহিনুর জানান, যখন গোটা রাজ্য চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারে উত্তাল, তখন সহানুভূতির বদলে মমতার গদি টলিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিলেন অভিষেক ও তাঁর অনুগামীরা। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রেও অভিষেকের অফিস থেকে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ এনেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর দলের বিপর্যয়ের আবহে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৃণমূলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। এই বিস্ফোরক দাবি যদি প্রমাণিত হয় বা তৃণমূলের অন্দরে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা দলের সর্বোচ্চ স্তরে বড়সড় ভাঙন বা রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।