চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড: ইউপিআই ট্রানজ্যাকশনের সূত্র ধরে জালে ৩ শুটার, উত্তরপ্রদেশ থেকে কলকাতায় আনা হচ্ছে ঘাতকদের!

চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড: ইউপিআই ট্রানজ্যাকশনের সূত্র ধরে জালে ৩ শুটার, উত্তরপ্রদেশ থেকে কলকাতায় আনা হচ্ছে ঘাতকদের!

রাজ্য রাজনীতির অন্যতম হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলায় বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তদন্তে ডিজিটাল সূত্র ও ইউপিআই পেমেন্ট

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত ৬ মে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের গাড়িতে হামলা চালানোর আগে একটি নিসান মাইক্রা গাড়ি বালি টোলপ্লাজা অতিক্রম করেছিল। ওই টোলপ্লাজায় গাড়িটির চালক ইউপিআই (UPI)-এর মাধ্যমে টোল ট্যাক্স মেটান। এই ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই পুলিশ অভিযুক্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বর্তমান অবস্থান ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মালিক কেবল ভাড়ায় খাটা চালক নাকি এই খুনের নেপথ্যে থাকা মূল ষড়যন্ত্রকারী।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক দুদিন পরেই এই রোমহর্ষক খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল। মধ্যমগ্রামের রাস্তায় চন্দ্রনাথ রথকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে পরপর চারটি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি এবং জখম হন তাঁর গাড়ি চালক। এই খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পেশাদার খুনিদের ব্যবহার করে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই অপারেশন চালানো হয়েছে। ভিনরাজ্য থেকে ধৃত এই তিনজনকে জেরা করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ বা উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এই গ্রেফতারির ফলে খুনের নেপথ্যে থাকা কোনো প্রভাবশালী চক্র বা সুপারি কিলার নেটওয়ার্কের তথ্য সামনে আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই তিনজনকে মুখোমুখি জেরা করে পুলিশ এই রহস্যের শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *