ইজরায়েলকে উপগ্রহ তথ্য পাচারের অভিযোগ, তরুণ মহাকাশ বিজ্ঞানীকে ফাঁসি দিল ইরান

ইরানের বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার অধীনে এবার প্রাণ হারালেন দেশটির অন্যতম মেধাবী অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার এরফান শাকুরজাদেহ। সোমবার ভোরে তেহরানের অদূরে কারাজ শহরের কেজেল হেসার কারাগারে ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ বিজ্ঞানীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CIA) এবং ইজরায়েলের মোসাদকে উপগ্রহ সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগ এনেছিল ইরান সরকার।
মেধাবী ছাত্র থেকে অভিযুক্ত গুপ্তচর
এরফান শাকুরজাদেহ ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্র ছিলেন। এর আগে তাবরিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করা এই তরুণ উপগ্রহ প্রযুক্তি গবেষণায় বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, একটি বৈজ্ঞানিক সংস্থায় কর্মরত থাকাকালীন তিনি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপগ্রহ প্রকল্পগুলোর গোপন নথি বিদেশি গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বিশেষ করে সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য মহাকাশ গবেষণার তথ্য ফাঁসের অভিযোগেই তাঁকে ‘শত্রু রাষ্ট্রের সহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
২০২৫ সালে গ্রেফতার হওয়া এই বিজ্ঞানীর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইরান হিউম্যান রাইটস সোসাইটি এবং এইচআরএএনএ-র (HRANA) মতো সংগঠনগুলোর দাবি, গত দুই বছর কারাবন্দি অবস্থায় এরফানের ওপর অসহনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল। এমনকি কারাগার থেকে পাঠানো একটি নোটে এরফান নিজেও তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। স্বাধীনভাবে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ না মেলায় এই রায়কে ‘অস্বচ্ছ’ এবং ‘একপাক্ষিক’ বলে অভিহিত করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা নীতি
সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল ও আমেরিকার সাথে ইরানের সম্পর্কের চরম অবনতি এই কঠোর সাজার পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মহাকাশ গবেষণা এবং উপগ্রহ প্রযুক্তি ইরানের প্রতিরক্ষা খাতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস রুখতে ইরান বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মাধ্যমে ইরান মূলত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে একটি কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশটিতে গোয়েন্দাগিরি বিরোধী ধরপাকড় এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনকে আরও কঠোর করতে পারে।