NEET-এর প্রশ্ন কত টাকায় বিক্রি? সিবিআই তল্লাশিতে ফাঁস হলো বিস্ফোরক তথ্য!

মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। গত ১২ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করার পর থেকেই তৎপরতা শুরু হয়। তদন্তের প্রথম পর্যায়েই জয়পুর, গুরুগ্রাম এবং নাসিক থেকে ৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে গোয়েন্দারা। ধৃতদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি এবং পাবলিক একজামিনেশন অ্যাক্ট ২০২৪-সহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
দেশজুড়ে তল্লাশি ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
সিবিআই সূত্রের খবর, রাজস্থান এসওজি-র প্রাথমিক তদন্তের সূত্র ধরে দিল্লি, রাজস্থান, হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রের একাধিক ডেরায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। অভিযানে প্রচুর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং সন্দেহজনক নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে যা প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো প্রমাণ দেয়। তদন্তে আরও জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে জয়পুরের দীনেশ নামক এক ব্যক্তি ১০ জন শিক্ষার্থীর কাছে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ‘গেস্ট পেপার’ বিক্রি করেছিলেন। এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে এবং এর সাথে প্রভাবশালী যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রভাব ও দেশজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ
প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই ঘটনায় দেশজুড়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এসএফআই (SFI), এনএসইউআই (NSUI) এবং এবিভিপি (ABVP)-র মতো ছাত্র সংগঠনগুলো ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA) বাতিলের দাবিতে পথে নেমেছে। সিবিআই জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই চক্রের প্রতিটি সদস্যকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এই ঘটনার ফলে ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্ন ফাঁসের পুনরাবৃত্তি রুখতে নতুন আইনের কঠোর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তাও প্রকট হয়েছে।