রাতের অন্ধকারে তিন বলির কাঠ ও ১২ নেতার নাম, চন্দ্রকোনায় তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা

ভোটের ফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা। এবার আর কেবল মারপিট বা ভাঙচুর নয়, মনোহরপুর বাজার এলাকায় রাতের অন্ধকারে অভিনব ও চাঞ্চল্যকর এক উপায়ে তৃণমূল নেতাদের নাম লেখা ‘বলির কাঠ’ পুঁতে রাখায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাস্তার ধারে পুঁতে রাখা তিনটি বলির কাঠে কাগজের টুকরোয় ১২ জন তৃণমূল নেতার নাম লিখে ঝোলানো ছিল, যা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রীতিমতো ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অতীতের ঘটনার বিচার ও হুমকির বার্তা
স্থানীয় সূত্রে খবর, বলির কাঠে ঝোলানো কাগজে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর কেন জনৈক নেপাল মানিককে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল এবং কেন তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা হয়েছিল, তার জবাব দিতে হবে। এই বার্তার মাধ্যমে কার্যত সরাসরি তৃণমূল নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য শুরু হয়, তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত সেই কাঠগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
তৃণমূলের অভিযোগ ও বিজেপির অবস্থান
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে পৌঁছেছে। চন্দ্রকোনা ব্লক সভাপতি তথা তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলই সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং এই ‘বলির হুমকি’ সেই সন্ত্রাসবাদী মানসিকতারই অংশ। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বিজেপি সভাপতি সবুজ মজুমদার জানিয়েছেন, এই ঘটনার সাথে দলের কোনো যোগসূত্র নেই। বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত গণক্ষোভ থেকেই সাধারণ মানুষ এমন কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
ভোট-পরবর্তী এই ‘বলির কাঠ রাজনীতি’ চন্দ্রকোনার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। ঘটনার জেরে মনোহরপুর বাজারসহ সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষের মন থেকে আতঙ্ক কাটছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতীকী হুমকি এলাকায় গোষ্ঠী সংঘর্ষের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।