ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখছেন? আপনার অজান্তেই বদলে যাচ্ছে আপনার মস্তিষ্ক!

ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখছেন? আপনার অজান্তেই বদলে যাচ্ছে আপনার মস্তিষ্ক!

কোভিড-পরবর্তী সময়ে স্মার্টফোন এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্ক্রল করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস বা শর্ট ভিডিও দেখার নেশা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে এক মহামারি আকার ধারণ করেছে। ফ্যাশন, হাস্যরস কিংবা ফিটনেস—সব ধরনের কনটেন্ট চোখের সামনে নিমেষে বদলে যাওয়ার এই সংস্কৃতি মানুষের মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও একাগ্রতার সংকট

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন একটানা ইনস্টাগ্রাম রিলস বা ইউটিউব শর্টস দেখার অভ্যাস মানুষের মস্তিষ্কের গঠন বা ‘রিওয়ায়ারিং’ বদলে দিচ্ছে। মাত্র ১৫-২০ সেকেন্ডের ভিডিওগুলো দ্রুত পরিবর্তন হওয়ার ফলে মস্তিষ্ক ‘ইনস্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশন’ বা তাৎক্ষণিক পরিতৃপ্তিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে গভীর কোনো বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করা, কোনো জটিল কাজ শেষ করা কিংবা এমনকি একটি সিনেমা দেখার মতো ধৈর্যও হারিয়ে ফেলছে মানুষ।

ডোপামিনের প্রভাব ও মানসিক অবসাদ

প্রতিবার নতুন রিলস দেখার সময় মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক হরমোনের নিঃসরণ ঘটে, যা ক্ষণিকের আনন্দ দেয়। এই প্রক্রিয়াটি এক ধরনের ডিজিটাল আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে। মস্তিষ্ক যখন কেবল দ্রুত ও ক্ষুদ্র তথ্যে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, তখন তার জটিল সমস্যার সমাধান এবং গভীর চিন্তার ক্ষমতা কমে যায়। সারাদিন এই ধরনের উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মানুষ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে।

যুবসমাজের ওপর প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকি

এই সমস্যার সবচেয়ে বড় শিকার শিশু ও তরুণ প্রজন্ম। রিলসের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক কেবল পড়াশোনাতেই ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে না, বরং এটি অনিদ্রা, খিটখিটে মেজাজ এবং চোখের সমস্যারও অন্যতম কারণ। চিকিৎসকরা একে ‘ডিজিটাল ড্রাগ’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। সময়মতো এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ না করলে আগামী দিনে এটি বড় ধরনের মানসিক বিপর্যয় এবং সৃজনশীলতার অভাব তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *