এনআরসি নথি থাকলেই কি নাগরিক হওয়া যায়! বড় রায় দিল হাইকোর্ট

এনআরসি নথি থাকলেই কি নাগরিক হওয়া যায়! বড় রায় দিল হাইকোর্ট

ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস বা এনআরসি (NRC) নথি কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। সম্প্রতি একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি জানিয়েছে গুয়াহাটি হাইকোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার মেধি ও বিচারপতি শামিমা জাহানের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এনআরসি তালিকায় নাম থাকলেই কাউকে সরাসরি ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য করা যাবে না। আদালতের এই রায়ের ফলে নাগরিকত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের একজনের অপরাধে অন্যকে বিদেশি বলা চলবে না

নাগরিকত্ব নিয়ে চলা এই দীর্ঘ শুনানিতে হাইকোর্ট একটি বড় আইনি রক্ষাকবচ প্রদান করেছে। আদালত জানিয়েছে, পরিবারের কোনো একজন সদস্যকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বিদেশি ঘোষণা করলেই তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর সেই তকমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদা রেফারেন্স বা নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তি থাকা বাধ্যতামূলক। মায়া দাস নামের এক আবেদনকারীর মামলায় ট্রাইব্যুনাল তাঁর পাঁচ সন্তানকেও বিদেশি ঘোষণা করেছিল, যা হাইকোর্ট আইনি ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করে বাতিল করে দিয়েছে।

যথেষ্ট নথির অভাব ও প্রমাণের দায়

আবেদনকারী মায়া দাস ১৯৬৫ সালের ভোটার তালিকা এবং ১৯৬৬ সালের এনআরসি নথি দাখিল করলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্কুলের শংসাপত্র বা পঞ্চায়েতের নথি দাখিল করলেই হবে না, সেগুলোর সত্যতা প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারি দপ্তরের সমর্থন প্রয়োজন। ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আবেদনকারীর ওপরই বর্তায়। যথাযথ লিঙ্কেজ নথি বা সরকারি দাপ্তরিক প্রমাণ ছাড়া কেবল মৌখিক সাক্ষ্য যে ধোপে টিকবে না, তা এই রায়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রভাব ও পরবর্তী আইনি পথ

আদালতের এই রায়ের ফলে নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে এনআরসি নথির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য শক্তিশালী নথিপত্রের প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পেল। মায়া দাসকে বিদেশি ঘোষণার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও, তাঁর সন্তানদের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল হওয়ায় তাঁরা সাময়িক স্বস্তি পেলেন। তবে প্রশাসন চাইলে তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে আলাদা মামলা শুরু করতে পারবে। আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, এই রায়ের ফলে আবেদনকারীর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) আওতায় আবেদন করার অধিকারে কোনো বাধা থাকবে না। মূলত নথিপত্রের যথাযথ আইনি যাঁচাই এখন থেকে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রধান মাপকাঠি হিসেবে গণ্য হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *