স্বস্তির খবর দিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ঢুকছে বর্ষা

তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা দেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা দিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)। নির্ধারিত সময়ের অন্তত চার দিন আগে আগামী ১৬ মে আন্দামান সাগরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবেশের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাধারণত ২০ মে নাগাদ মৌসুমী বায়ু আন্দামান উপকূলে পৌঁছালেও এবার পরিস্থিতি দ্রুত অনুকূল হওয়ায় আগেই বর্ষার আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের একাংশে মৌসুমী বায়ু অগ্রসর হওয়ার জন্য পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তীব্র তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির দ্বিমুখী আবহাওয়া
বর্ষার আগমনের এই ইতিবাচক সংকেতের মাঝেই ভারতজুড়ে আবহাওয়ার দুটি ভিন্ন রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। একদিকে উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলোতে সূর্য যেন আগুন ঝরাচ্ছে, অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে জারি করা হয়েছে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের আবহাওয়া বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক; সেখানে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছুঁয়েছে। রাজধানী দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানেও আগামী কয়েক দিন তাপপ্রবাহের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বজ্রবৃষ্টির এক মিশ্র পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। তবে পাহাড়ি রাজ্যগুলোতে নতুন করে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে তুষারপাত ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্ষার প্রভাব ও আগামী দিনের সতর্কতা
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যে আগামী ১৯ মে পর্যন্ত টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আসাম, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে অতি ভারী বর্ষণের কারণে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দক্ষিণ ভারতেও তামিলনাড়ু ও কেরালায় ১৭ মে পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বিহারে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে যা ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক মুক্তি দেবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বর্ষার এই প্রবেশ কৃষি ও জলাধারগুলোর জলস্তর বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ থেকে দেশের একটি বড় অংশকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে।