আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা! বন্ধ হতে পারে রুশ তেল আমদানি? ভারতে কি পেট্রোল-ডিজেলের হাহাকার পড়বে?

রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা বাকি। ১৬ মে রাত ১২টা ০১ মিনিটে এই বিশেষ অনুমতির সময়সীমা শেষ হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘ ৭৫ দিনের অচলাবস্থা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের সংকটের মাঝে ভারতের এই জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত মার্চ মাসে ভারতকে এই ছাড় দিয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই নয়াদিল্লির ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে যাতে মস্কোর কাছ থেকে তেলের নির্ভরতা কমানো হয়।
আমদানিতে রেকর্ড ও বর্তমান পরিস্থিতি
নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় ভারতীয় রিফাইনারি সংস্থাগুলো দ্রুত মজুত বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কেপলারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে রাশিয়া থেকে তেলের আমদানি দৈনিক ২৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা একটি রেকর্ড। তবে তেল আমদানিতে তোড়জোড় থাকলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে রাশিয়ার এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কার্গো নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারত। ফলে রাশিয়ার অন্তত একটি এলএনজি জাহাজ বর্তমানে সিঙ্গাপুরের উপকূলে আটকে আছে। এই সংকট নিরসনে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরকারের অবস্থান
জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলেও কেন্দ্রীয় সরকার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদিপ সিং পুরি জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ৬৯ দিনের এলএনজি এবং ৪৫ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলপিজির দৈনিক উৎপাদন ৩৬ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ৫৪ হাজার টন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, পর্যাপ্ত মজুত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল বা ডিজেলের বড় কোনো ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং রুশ তেলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।