আকাশ ভেঙে নামল যমরাজ! উত্তরপ্রদেশে ১০০ ছাড়াল মৃত্যু, ফিরে এল ইতিহাসের ৫ বিভীষিকাময় ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি

আকাশ ভেঙে নামল যমরাজ! উত্তরপ্রদেশে ১০০ ছাড়াল মৃত্যু, ফিরে এল ইতিহাসের ৫ বিভীষিকাময় ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি

উত্তরপ্রদেশের আকাশে যমরাজ হয়ে আছড়ে পড়ল কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি। গত ১৪ ও ১৫ মে রাজ্যের প্রয়াগরাজ, ভদোহি, মির্জাপুর এবং সোনভদ্রসহ একাধিক জেলায় প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০৪ জন। ধুলোর ঝড়ে দিনের বেলাতেই নেমে আসে অন্ধকারের চাদর। ভেঙে পড়েছে গাছপালা ও ঘরবাড়ি, মৃত্যু হয়েছে শতাধিক গবাদি পশুর। রাজ্য ত্রাণ কমিশনারের দফতর জানিয়েছে, ঝড়ে প্রায় ৯০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন এবং উদ্ধারকাজ দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রকৃতির ধ্বংসলীলা ও বর্তমান ক্ষয়ক্ষতি

প্রবল বাতাসের বেগে উত্তরপ্রদেশের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গাছ পড়ে রাস্তাঘাট বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার, যার ফলে বিশাল এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, বায়ুমণ্ডলের চাপের আকস্মিক পরিবর্তন ও তীব্র তাপপ্রবাহের পর আর্দ্রতার প্রবেশের কারণেই এই প্রলয়ঙ্কারী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিহাসের ৫টি মহাবিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়

উত্তরপ্রদেশের এই ভয়াবহতা বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া অতীতের কিছু বীভৎস প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের স্মৃতি উসকে দিয়েছে:

  • ভোলা সাইক্লোন (১৯৭০): ১২ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়া এই ঝড়টিকে বিশ্বের সবচেয়ে ঘাতক ঘূর্ণিঝড় বলা হয়। এতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩ থেকে ৫ লক্ষ মানুষ।
  • কোরিগা সাইক্লোন (১৮৩৯): অন্ধ্রপ্রদেশের কোরিগা বন্দরে ৪০ ফুট উঁচু সামুদ্রিক ঢেউয়ে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
  • হুগলি নদী সাইক্লোন (১৭৩৭): কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আঘাত হানা এই ঝড়ে ৩ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান। রাস্তার ওপর দিয়ে নৌকা ভাসার মতো ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল তখন।
  • নীনা টাইফুন (১৯৭৫): চিনে এই টাইফুনের প্রভাবে বাঁধ ভেঙে গিয়ে বন্যা দেখা দেয়, যাতে প্রায় ১.৭১ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
  • নার্গিস সাইক্লোন (২০০৮): মায়ানমারের ইরাবতী ডেল্টা অঞ্চলে এই ঝড়ে প্রাণ হারান ১.৩৮ লক্ষ মানুষ।

জলবায়ুর ক্রমাগত পরিবর্তন এবং উষ্ণায়ন এই ধরণের ঝড়ের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তরপ্রদেশের এই সাম্প্রতিক বিপর্যয় আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে, আধুনিক প্রযুক্তি সত্ত্বেও প্রকৃতির চরম মেজাজের সামনে মানুষ কতটা অসহায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *