রাজকীয় অভ্যর্থনা, ট্রাম্পের মুখে জিনপিংয়ের প্রশংসা কি বিশ্ব রাজনীতির নতুন মোড়?

আট বছর পর বেইজিংয়ের মাটিতে পা রেখে ভোলবদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সময়ের চরম সমালোচক ট্রাম্প তিয়ান আন মেন স্কোয়ারে দাঁড়িয়ে শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ বলে অভিহিত করেছেন। ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে রাজকীয় অভ্যর্থনা পাওয়া ট্রাম্পের এই সফরে সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন এলন মাস্ক এবং এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং-এর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। গত ১৪ ও ১৫ মে গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে দুই নেতার দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট।
হরমুজ প্রণালীর সংকট ও তেলের বাজার
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি সরবরাহের এই পথ অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বৈঠকে ট্রাম্প এবং জিনপিং উভয়েই একমত হয়েছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে এই জলপথ সচল রাখা জরুরি। বিশেষ করে, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়, সে বিষয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বেইজিং এখন মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আমেরিকা থেকে আরও বেশি তেল আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
কূটনৈতিক মেরুকরণ ও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই সাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনো দেশই জাহাজের ওপর বাড়তি ‘টোল’ বা মাসুল চাপাতে পারবে না। মূলত ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীনকে ব্যবহার করেই তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে ওয়াশিংটন। খবরের গুঞ্জন অনুযায়ী, চীনের মধ্যস্থতাতেই ইরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে। ফেন্টানিল পাচার রোধ এবং উন্নত চিপ টেকনোলজি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এই সফর কোনো চূড়ান্ত সমাধান না দিলেও, গত এপ্রিল থেকে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা প্রশমনে এটি একটি ‘কুলিং পিরিয়ড’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।