জ্বালানির বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা, পেট্রোল-ডিজেলের পর এবার মহার্ঘ CNG !

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের জেরে দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের পর এবার একধাক্কায় দাম বাড়ল সিএনজির (কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস)। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে। ফলে একদিকে যেমন পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৩ টাকা বেড়েছে, তেমনই রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি কেজি সিএনজির দাম বেড়েছে ২ টাকা পর্যন্ত। এই জোড়া ধাক্কায় আমজনতার পকেটে টান পড়ার পাশাপাশি গণপরিবহনের খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রবল হয়েছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অটো ভাড়ার নতুন শঙ্কা
দিল্লিতে প্রতি কেজি সিএনজির দাম ৭৭.০৯ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯.০৯ টাকায়। অন্যদিকে, মুম্বইয়েও সমান্তরালভাবে সিএনজির দাম বাড়িয়েছে মহানগর গ্যাস লিমিটেড (এমজিএল)। যদিও কলকাতায় আপাতত সিএনজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, তবে দিল্লি ও মুম্বইয়ের এই মূল্যবৃদ্ধির পর কলকাতাতেও দ্রুত সিএনজির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যদি কলকাতায় সিএনজির দাম বাড়ে, তবে স্বাভাবিকভাবেই চালকদের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং অটো ইউনিয়নগুলো পুনরায় ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে সরব হবে। এর আগে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে একাধিক রুটে অটো ভাড়া বেড়েছিল, ফলে আরও একবার ভাড়া বাড়লে সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি ও ব্যয় বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বেই দেশবাসীকে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার ও প্রয়োজনে ঘর থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার মতো পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পরামর্শ বাস্তবায়নে বড় ধাক্কা লেগেছে। জ্বালানি সংকটের জেরে একদিকে যখন সাধারণ মানুষকে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে, ঠিক তখনই বাস ও অটোর মূল জ্বালানি সিএনজির দাম বাড়ায় নিত্যযাত্রীদের যাতায়াত খরচ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন বাজেট যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনই পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।