মধ্যবিত্তের পকেটে ছ্যাঁকা দিয়ে দেশজুড়ে একলাফে বাড়ল জ্বালানির দাম

দেশজুড়ে একলাফে লিটার প্রতি ৩ টাকা করে বেড়ে গেল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। শুক্রবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে এই নতুন দর। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার জেরে দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত তা-ই সত্যি হলো। এই সিদ্ধান্তের ফলে কলকাতায় পেট্রোলের দাম ১০৫.৪৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৮.৭৪ টাকা। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৯২.০২ টাকা থেকে বেড়ে স্পর্শ করেছে প্রায় ৯৫.১৩ টাকা। হঠাৎ এই দামবৃদ্ধিতে স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ মধ্যবিত্তের।
বিশ্ববাজারের সঙ্কট ও আন্তর্জাতিক চাপ
তেল সংস্থাগুলি এই মূল্যবৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট না করলেও অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিই এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলিকে অনেক বেশি টাকা খরচ করে তেল আমদানি করতে হচ্ছিল। এতদিন দেশীয় বাজারে দাম না বাড়ানোয় সংস্থাগুলি বিপুল আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছিল, যা সামাল দিতেই অবশেষে এই দামবৃদ্ধির পদক্ষেপ।
আমাদের হাতে কিছু নেই, মন্তব্য দিলীপ ঘোষের
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বিশ্ব সঙ্কটের প্রসঙ্গটিই তুলে ধরেছেন। শুক্রবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়াটা আমাদের হাতে নেই। গত ৩ বছর ধরে বিশ্বে যুদ্ধ চলছে এবং একাধিক দেশে নানারকমের সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে চলা এই সঙ্কট থেকে তো আমরা আলাদা হতে পারি না।’ তবে আমজনতাকে আশ্বস্ত করে তিনি দাবি করেন, জ্বালানি ও গ্যাসের দাম সামান্যই বেড়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের মানুষের ওপর এর বড় কোনো আঁচ আসতে দেবেন না।
বাজারদরে বড় প্রভাব ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের দাম লিটারে ৩ টাকা বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর। পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাজারদরে তার প্রতিফলন ঘটবে। চাল, ডাল, সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসের দাম আরও একদফা বাড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে রান্নার গ্যাসের পর এবার যাতায়াত এবং রোজকার খাবারদাবারের খরচ সামলাতে আমজনতার বাজেট যে পুরোপুরি বিগড়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।