অবশেষে ইডির দফতরে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, পাঁচ বার এড়ানোর পর আকস্মিক হাজিরায় চাঞ্চল্য!

পুরোদস্তুর নাটकीय মোড় নিয়ে অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মুখোমুখি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। এর আগে পর পর পাঁচ বার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নোটিস এড়িয়ে গেলেও, আজ সকালে আকস্মিকভাবেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন তিনি। সুত্রের খবর, পূর্বনির্ধারিত কোনো সূচি বা ইডিকে আগাম কোনো বার্তা না দিয়েই এদিন সকাল সকাল তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে পৌঁছে যান এই প্রভাবশালী নেতা।
পৌরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রথীন ঘোষকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। তবে প্রতিবারই কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। ফলে আজ তাঁর এই আচমকা আগমন সিজিও কমপ্লেক্সের ভেতরে ও বাইরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও হাজিরার নেপথ্য কারণ
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, রাজ্যের একাধিক পৌরসভায় বিগত বছরগুলোতে যে কর্মী নিয়োগ হয়েছিল, তাতে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রথীন ঘোষ যখন মধ্যমগ্রাম পৌরসভার দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়কার কিছু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই মূলত তদন্তকারীদের আতসকাচের তলায় রয়েছেন তিনি। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং পূর্বে ধৃতদের বয়ান খতিয়ে দেখে রথীন ঘোষের বয়ান রেকর্ড করা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছে ইডি।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, বারবার নোটিস এড়ানোর ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি চাপ বাড়ছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই হয়তো প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী আর ঝুঁকি না নিয়ে আচমকা হাজিরা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ও সম্ভাব্য প্রভাব
রথীন ঘোষের এই আকস্মিক হাজিরা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। একদিকে যখন বিরোধীরা একে ‘দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ ও আইনি ভীতি’ বলে সরব হয়েছে, অন্যদিকে শাসক শিবির বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছে।
এই জিজ্ঞাসাবাদের ওপর ভিত্তি করে পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত আগামীদিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। রথীন ঘোষের বয়ানে নতুন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসে কি না, কিংবা কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁর জবাবে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে রাজ্যের রাজনীতির পরবর্তী সমীকরণ।