জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী, জুনেই বাংলায় শুরু হচ্ছে নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়

বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। কুর্সিতে বসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যের বিজেপি সরকার হবে সম্পূর্ণভাবে ‘আম জনতার’। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যেই এবার রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে ‘জনতার দরবার’। আগামী ১ জুন থেকে এই বিশেষ উদ্যোগের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যবাসী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত দু’দিন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনের শীর্ষস্তরের কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের মুখোমুখি বসবেন।
জনসংযোগ ও দ্রুত সমাধানের মডেল
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি করতেই এই মডেল কার্যকর করা হচ্ছে। ‘জনতার দরবার’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সরাসরি তদারকি করতে পারবেন। ফলে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনই সরকারের প্রতি রাজ্যবাসীর বিশ্বাস ও আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যান্য রাজ্যের অনুকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দেশজুড়ে বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে এই ধরনের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ব্যাপক সফল ও জনপ্রিয় হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। একইভাবে ওড়িশায় এই ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনশুনানি’। মূলত এই সমস্ত রাজ্যের সফল মডেলকে অনুকরণ করেই এবার বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।
১ জুনের মধ্যে এই দরবার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিকাঠামো সম্পূর্ণ করার প্রস্তুতি চলছে। এই উদ্যোগের ফলে তৃণমূল স্তরের মানুষের আইনি, সামাজিক বা স্থানীয় নানা সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে এবং রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।