জেলে বসেই অপরাধের রিমোট কন্ট্রোল, শুভেন্দুর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’ সাসপেন্ড সুপারসহ শীর্ষ আধিকারিকেরা

রাজ্যের সংশোধনাগারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বন্দিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের দৌরাত্ম্য রুখতে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রেসিডেন্সি জেলসহ বিভিন্ন সংশোধনাগারে বন্দিদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যাওয়া এবং সেখান থেকে অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি সন্দেশখালির শাহজাহান শেখের মতো কুখ্যাত অপরাধীরা জেলবন্দি থেকেও মোবাইল ব্যবহার করছেন, এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কর্তব্য পালনে গাফিলতি এবং বন্দিদের অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন যে, জেলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে একপ্রকার সুনামি বয়ে গেছে।
অভিযান ও বাজেয়াপ্ত মোবাইল
কারা দপ্তরের এই অব্যবস্থার জন্য পূর্বতন সরকারের নীতিকেই দায়ী করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দমদম থেকে বহরমপুর, প্রায় প্রতিটি সেন্ট্রাল জেলেই কয়েদিদের একাংশ অবাধে মোবাইল ব্যবহার করছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশি অভিযানে এখন পর্যন্ত সংশোধনাগারগুলো থেকে মোট ২৩টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অপরাধীরা জেলের ভেতর থেকেও নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল। পুলিশ ইতিমধ্যে অনেকগুলো মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। আগের সরকারের অপদার্থতার কারণেই জেলগুলোতে এই অরাজকতা তৈরি হয়েছিল।”
নিরাপত্তায় নতুন পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
জেলের ভেতর থেকে অপরাধীরা যাতে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত কড়াকড়ি বাড়ানো হচ্ছে। জেলের শীর্ষ আধিকারিকদের সাসপেন্ড করার মাধ্যমে নীচুতলার কর্মীদের কাছেও কঠোর সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। আগামী দিনে এই ধরনের অপরাধ রুখতে নিয়মিত বিরতিতে জেলগুলোতে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র ও কারা দপ্তর। রাজ্য সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের চলে আসা ‘জেল-সংস্কৃতি’ এবং অপরাধী-প্রশাসন আঁতাত বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।