‘ক্যা হুয়া তেরা ওয়াদা?’, পেট্রোলের দামের ফারাক টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে তীব্র কটাক্ষ তৃণমূলের

‘ক্যা হুয়া তেরা ওয়াদা?’, পেট্রোলের দামের ফারাক টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে তীব্র কটাক্ষ তৃণমূলের

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে জ্বালানির সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে জোরালো আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের আগে দেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর একটি পুরোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বর্তমান দামের তুলনা টেনে বিজেপি সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূলের সাফ কথা—ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি এখন ‘ডবল জুমলা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

পুরোনো প্রতিশ্রুতি বনাম বর্তমান বাস্তব

তৃণমূলের শেয়ার করা ওই ভিডিওতে শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে এখানেও পেট্রোল-ডিজেলের দাম অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের সমান করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে আজ পেট্রোলের দাম বাড়ার পর বর্তমান মূল্যের একটি তুলনামূলক খতিয়ান পেশ করেছে তৃণমূল:

  • দিল্লিতে পেট্রোলের দাম: ৯৭ টাকা (প্রতি লিটার)
  • কলকাতায় পেট্রোলের দাম: ১০৮ টাকা (প্রতি লিটার)

তৃণমূলের দাবি, দিল্লির তুলনায় কলকাতার মানুষ এখনও প্রতি লিটারে ১১ টাকা বেশি দিয়ে পেট্রোল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

‘ডবল জুমলা’ ও ‘ক্যা হুয়া তেরা ওয়াদা’

কলকাতা ও দিল্লির মধ্যে তেলের এই দামের ফারাক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী যদি তাঁর নিজের দেওয়া কথার মান রাখতে চান, তবে অবিলম্বে রাজ্যে এই বাড়তি ১১ টাকা কমানোর ঘোষণা করুন। তা না হলে বুঝতে হবে যে, ভোট পাওয়ার জন্য এটি একটি মস্ত বড় রাজনৈতিক ভাঁওতাবাজি ছিল। হিন্দি গানের লাইন ধার করে তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, “ক্যা হুয়া তেরা ওয়াদা?” (তোমার সেই প্রতিশ্রুতির কী হলো?)

চাপ বাড়ছে সরকারের ওপর

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ আশা করেছিলেন যে জ্বালানির ওপর সেস বা ভ্যাট কমিয়ে কিছুটা স্বস্তি দেবে নতুন সরকার। কিন্তু বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে আজ দাম বাড়ার পর বিরোধীরা স্বভাবতই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে। তৃণমূলের এই ‘ভিডিও বাণ’ এবং ‘ডবল জুমলা’ কটাক্ষের জবাবে বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুরুতেই ব্যাকফুটে ফেলার এই সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে নারাজ বিরোধী শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *