জগন্নাথ মন্দিরের রেশ ধরে ভোলবদল, ‘অমৃতভারত’ প্রকল্পে বিমানবন্দরের ধাঁচে সাজছে দীঘা রেলস্টেশন

জগন্নাথ মন্দিরের রেশ ধরে ভোলবদল, ‘অমৃতভারত’ প্রকল্পে বিমানবন্দরের ধাঁচে সাজছে দীঘা রেলস্টেশন

বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দীঘায় এবার রেলযাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে বিশ্বমানের পরিষেবা। ভারতীয় রেলের ‘অমৃতভারত স্টেশন’ প্রকল্পের অধীনে দীঘা রেলস্টেশনকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও বিমানবন্দরের ধাঁচে সাজিয়ে তোলার কাজ এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। পূর্ব ভারতের এই অন্যতম ব্যস্ত স্টেশনটির খোলনলচে বদলে ফেলে পর্যটকদের এক অভূতপূর্ব ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিতেই রেল মন্ত্রকের এই মেগা উদ্যোগ।

থাকছে বিমানবন্দরের মতো অত্যাধুনিক পরিকাঠামো

দীঘা স্টেশনকে আধুনিক রূপ দিতে স্টেশন চত্বর এবং মূল ভবনের নকশায় আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন রেলস্টেশনে যে সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে, তার একটি ঝলক:

  • আধুনিক কনকোর্স ও লাউঞ্জ: স্টেশনে পা রাখলেই যাতে বিমানবন্দরের মতো অনুভূতি মেলে, তার জন্য তৈরি হচ্ছে বিশাল আধুনিক কনকোর্স (Concourse) এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) ওয়েটিং লাউঞ্জ।
  • লিফট ও এসকালেটর: প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধীসহ সমস্ত যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত লিফট এবং এসকালেটর (চলন্ত সিঁড়ি) বসানো হচ্ছে।
  • ফুড কোর্ট ও কেনাকাটার ব্যবস্থা: ট্রেন ধরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের জন্য তৈরি হচ্ছে মাল্টি-িন ফুড কোর্ট। এর পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে থাকবে বিশেষ ক্রাফট ও হস্তশিল্পের স্টল।

জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর ভিড় সামলানোর প্রস্তুতি

দীঘায় সদ্য নির্মিত भव्य জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। মন্দির উদ্বোধনের পর আগামী দিনে দীঘায় পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের ভিড় কয়েক গুণ বাড়বে বলে নিশ্চিত প্রশাসন। সেই বাড়তি ভিড়ের চাপ সামাল দিতে এবং পর্যটকদের যাতায়াত মসৃণ করতেই রেল দপ্তর আগেভাগেই স্টেশন চত্বরের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যায়নের ওপর জোর দিয়েছে।

পর্যটনে নতুন দিগন্ত

নতুন সরকারের জমানায় দীঘার সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের যে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে, রেলের এই আধুনিকীকরণ প্রকল্প তারই একটি বড় অংশ। স্টেশন চত্বরে প্রবেশ ও প্রস্থানের (Entry & Exit) পথগুলিকেও প্রশস্ত করা হচ্ছে যাতে কোনো যানজটের সৃষ্টি না হয়। রেল আধিকারিকদের আশা, দ্রুতগতির এই কাজ শেষ হলে দীঘা রেলস্টেশনটি শুধু পূর্ব রেলেরই নয়, বরং গোটা দেশের অন্যতম সেরা সুন্দর ও প্রযুক্তি-নির্ভর স্টেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা দক্ষিণবঙ্গের পর্যটন শিল্পে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *