অনলাইন বেটিংয়ের মারণ নেশা, সর্বস্ব হারিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

অনলাইন বেটিংয়ের মারণ নেশা, সর্বস্ব হারিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

অনলাইন জুয়া ও ক্রিকেট বেটিংয়ের মারণ নেশায় পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে শিলিগুড়ির এক হোটেলে আত্মঘাতী হলেন সিকিমের এক যুবক। বুধবার রাতে শিলিগুড়ির জংশন এলাকার একটি হোটেল থেকে টিকারাম শংকর (২৯) নামের ওই যুবকের নীল হয়ে যাওয়া নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে, যা দেখে প্রাথমিক অনুমান অনলাইন গেমিংয়ের বিপুল দেনার দায় সইতে না পেরেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

সুইসাইড নোটে দেনা ও মানসিক চাপের উল্লেখ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবক সিকিমের বাসিন্দা। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শিলিগুড়ির ওই হোটেলে এসে থাকছিলেন। বুধবার দীর্ঘক্ষণ তাঁর ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় প্রধাননগর থানায়। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে যুবকের দেহ উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে টিকারাম লিখেছেন, ক্রিকেট বেটিং এবং বিভিন্ন অনলাইন গেমের চক্করে পড়ে কয়েক লক্ষ টাকা দেনা হয়ে গিয়েছিল তাঁর। বাজারে বিপুল অঙ্কের এই ধার মেটাতে না পারায় পাওনাদাররা গত কয়েকদিন ধরে তাঁর ওপর চরম মানসিক চাপ তৈরি করছিল। সেই অপমান ও চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

তদন্তে নেমেছে পুলিশ

পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। যুবকের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ির জংশন এলাকার হোটেলটি কোন কোন নথির ভিত্তিতে তাঁকে ঘর ভাড়া দিয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ মৃত যুবকের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং সেটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে তিনি কোন কোন অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে বেটিং চক্রে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কারা তাঁকে টাকা পরিশোধের জন্য হুমকি দিচ্ছিল।

যুবসমাজের ওপর অনলাইন জুয়ার থাবা

শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় ইদানীংকালে যুবসমাজের মধ্যে অনলাইন জুয়া এবং ইনস্ট্যান্ট লোন অ্যাপের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ক্রিকেট আইপিএল বা আন্তর্জাতিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে যে কোটি কোটি টাকার চোরাগোপ্তা বেটিং চক্র চলছে, এই ঘটনা তারই আরও এক করুণ ও মর্মান্তিক উদাহরণ। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *