শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলা মামলা, দীর্ঘ জেরার পর গ্রেফতার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা

শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলা মামলা, দীর্ঘ জেরার পর গ্রেফতার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা

গত বছর কোচবিহারের খাগড়াবাড়িতে বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৎকালীন বিরোধী দলনেতা (LOP) শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনায় এক বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ প্রশাসন। এই হাইপ্রোফাইল হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার গ্রেফতার করা হলো প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শুভঙ্কর দে-কে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে তাঁকে আটক করে দীর্ঘক্ষণ ম্যারাথন জেরা করা হয়। কিন্তু বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় অবশেষে রাতে তাঁকে সরকারিভাবে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কে এই শুভঙ্কর দে?

শুভঙ্কর দে কোচবিহার জেলা রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ। গত বছর নভেম্বরে বিধাননগরের দত্তাবাদ এলাকায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল কোচবিহার-২ ব্লকের তৎকালীন তৃণমূল সভাপতি সজল সরকারের। পুলিশ সজলকে গ্রেফতার করার পর, ওই ব্লকের সাংগঠনিক হাল ধরতে এবং ফাঁকা আসন পূরণ করতে ঘাসফুল শিবিরের পক্ষ থেকে শুভঙ্কর দে-কে নতুন ব্লক সভাপতির দায়িত্বে বসানো হয়েছিল। এবার সেই হাইপ্রোফাইল নেতাই চলে এলেন পুলিশের জালে।

কী ঘটেছিল খাগড়াবাড়িতে?

গত বছর কোচবিহার সফরের সময় খাগড়াবাড়ি এলাকায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় লক্ষ্য করে আচমকাই হামলা চালানো হয়। কনভয় লক্ষ্য করে ইট-পাথর বৃষ্টি করার পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর এবং কালো পতাকা দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা বলয় নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছিল, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতেও তোলপাড় শুরু হয়। এই হামলার নেপথ্যে মূল চক্রান্তকারী ও উস্কানিদাতা হিসেবে প্রথম থেকেই শুভঙ্কর দে-র নাম পুলিশের খাতায় ছিল।

তদন্তের পরবর্তী ধাপ

পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, শুভঙ্করকে হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে এবং খাগড়াবাড়ির ওই হামলায় আর কোন কোন তৃণমূল কর্মী বা বহিরাগত দুষ্কৃতী যুক্ত ছিল, তাদের নাম জানার চেষ্টা করা হবে। আজই ধৃত তৃণমূল নেতাকে কোচবিহার জেলা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পুরনো এই সমস্ত রাজনৈতিক হিংসার মামলার তদন্তে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা বর্তমান শাসক শিবিরের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, এই গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে বিরোধী তৃণমূল শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *