হাল ছাড়বেন না মমতা, কালীঘাটের বৈঠকে নতুন করে লড়াইয়ের ডাক দলনেত্রীর

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন হতাশার আবহ, ঠিক তখনই দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে ময়দানে নামলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খোদ নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে পরাজিত হওয়ার পরেও হাল ছাড়তে নারাজ তিনি। শনিবার কালীঘাটের বাসভবনে ভোটে পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠকে দলনেত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, দল ছেড়ে কেউ চলে যেতে চাইলে যেতে পারেন, তিনি নতুন করে আবার দল গড়ে তুলবেন। ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে জয় পেয়ে তৃণমূল এবার বিরোধী আসনে বসলেও, এই পরাজয়কে চূড়ান্ত মানতে নারাজ শীর্ষ নেতৃত্ব।
নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা
নির্বাচনে দলের বহু হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী সহ ২১১ জন প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের ভেঙে পড়া মনোবল পুনরুদ্ধার করাই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। কালীঘাটের বৈঠকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, জেলায় জেলায় বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ভেঙে ফেলা পার্টি অফিসগুলো যেন দ্রুত মেরামত করে পুনরায় সচল করা হয়। প্রয়োজনে তিনি নিজেও পার্টি অফিস রং করার কাজে হাত দেবেন বলে জানান। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে পরাজিত প্রার্থীদের আসাম সাহসের সঙ্গে লড়াই করার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।
দলবদল রুখতে কড়া মনোভাব ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভোটের ফল বিপর্যয়ের পর দলের একটি বড় অংশের মধ্যে দলবদলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত কড়া এবং বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যারা দল ছাড়তে চান, তাদের তিনি জোর করে আটকে রাখবেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলনেত্রীর এই কঠোর মনোভাব একদিকে যেমন সুবিধাবাদী নেতাদের দলত্যাগের পথ প্রশস্ত করতে পারে, অন্যদিকে তেমনই খাঁটি ও অনুগত কর্মীদের নিয়ে এক নতুন তরুণ ব্রিগেড তৈরির সুযোগ করে দেবে। “মানুষের রায় লুট করা হয়েছে” বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, আপাতত তৃণমূলের মূল লক্ষ্য তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং আগামী দিনে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরা।