সিলেবাসে কাঁচি চলতেই চমক! কোন ইতিহাস সরিয়ে দেওয়া হল এবার?

বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নবগঠিত বিজেপি সরকার স্কুলের পাঠ্যসূচিতে ব্যাপক রদবদল আনতে চলেছে বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইতিহাস বই থেকে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে যুক্ত হওয়া বেশ কিছু অধ্যায় বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সিলেবাস পরিবর্তনের জন্য বিকাশ ভবনে আবেদন জমা পড়েছে।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আপাতত বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও এখনও পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে শুদ্ধিকরণ এবং পাঠ্যক্রম সংস্কারের প্রক্রিয়া পর্দার আড়ালে শুরু হয়ে গিয়েছে।
সিঙ্গুর আন্দোলন ও মুঘল ইতিহাস বাদ পড়ার জল্পনা
২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পর অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইতে চার পাতা জুড়ে সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের সময়রেখা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এমনকি সেই সময়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়। বিজেপি শিবিরের দাবি, নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই রাজনৈতিক ইতিহাস বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
দলীয় বিধায়ক সজল ঘোষের সাম্প্রতিক বক্তব্য এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তাঁর ইঙ্গিত, শুধু সিঙ্গুর আন্দোলনই নয়, মুঘল যুগের ইতিহাস চিত্রায়নের ক্ষেত্রেও বদল আসতে পারে। আকবর বা শাহজাহানের মতো চরিত্রদের যেভাবে এতদিন তুলে ধরা হয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
শিক্ষামহলে স্বস্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
পাঠ্যসূচির এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। তাঁদের মতে, বিগত দিনে ইতিহাসের রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল এবং স্কুলের পাঠ্যবইকে রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ ইতিহাস পড়ার সুযোগ পাবে। তবে সিলেবাসের এই আকস্মিক রদবদল আগামী শিক্ষাবর্ষের পড়ুয়াদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে এবং নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে কোন কোন বিষয়ে চূড়ান্ত কোপ বসান, এখন সেটাই দেখার।