সিবিএসই দ্বাদশের রেজাল্ট বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল বোর্ড, নম্বর কম পাওয়ার নেপথ্যে কি তবে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি

সিবিএসই দ্বাদশের রেজাল্ট বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল বোর্ড, নম্বর কম পাওয়ার নেপথ্যে কি তবে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) দ্বাদশের ফল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং গণিতের মতো প্রধান বিষয়গুলিতে বহু পরীক্ষার্থী আশানুরূপ নম্বর পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফল বিপর্যয়ের জন্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সরাসরি আঙুল তুলেছেন বোর্ডের ডিজিটাল ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ বা ওএসএম ব্যবস্থার দিকে। নেটমাধ্যমে এই মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে সিবিএসই কর্তৃপক্ষ।

বোর্ডের সাফাই ও পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ

বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে যে অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নির্ভুল, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। দেশের সব প্রান্তের পরীক্ষকেরা যাতে একটি নির্দিষ্ট আদর্শ মানদণ্ড মেনে খাতা দেখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এতে ধাপে ধাপে নম্বর দেওয়ার বা ‘স্টেপওয়াইজ মার্কিং’ পদ্ধতি আগের মতোই বজায় রয়েছে। তবে ফলাফলে অসন্তুষ্ট পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করে বোর্ড জানিয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকছে। পরীক্ষার্থীরা নিজেদের মূল্যায়িত উত্তরপত্রের কপি চেয়ে আবেদন করতে পারবেন এবং কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়লে বোর্ডের নিয়ম মেনে তা সংশোধনের পথও খোলা রাখা হয়েছে।

পাশের হার হ্রাস ও সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা

এ বছর সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষায় পাশের হার গতবারের ৮৮.৩৯ শতাংশ থেকে কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫.২০ শতাংশে। মোট ১৬ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ লক্ষ ৭ হাজার ১০৯ জন। বরাবরের মতো এবারও ছেলেদের (৮২.১৩%) তুলনায় মেয়েরা (৮৮.৮৬%) পাশের হারে এগিয়ে রয়েছে, আর রূপান্তরকামীদের পাশের হার শতভাগ। ফল ঘোষণার দিনই বোর্ড আগামী ১৫ জুলাই সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার দিন ধার্য করেছে। যারা একটি বিষয়ে নম্বর বাড়াতে চান কিংবা কম্পার্টমেন্টাল বিভাগে রয়েছেন, তারা আগামী ২ জুন থেকে স্কুলের মাধ্যমে এই পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এক ঝলকে

  • সিবিএসই দ্বাদশের বিজ্ঞান শাখায় প্রত্যাশিত নম্বর না মেলায় ডিজিটাল ওএসএম মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
  • বোর্ড ওএসএম পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ দাবি করলেও পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের কপি দেখার ও পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দিচ্ছে।
  • এ বছর পাশের হার সামান্য কমে ৮৫.২০ শতাংশ হয়েছে এবং ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা প্রায় ৬.৭৩ শতাংশ বেশি পাশ করেছে।
  • আগামী ১৫ জুলাই সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং এর জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ২ জুন থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *