লাউডস্পিকার বিধিকে কেন্দ্র করে আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, রণক্ষেত্র রেলপাড়

রাজ্য সরকারের বেঁধে দেওয়া লাউডস্পিকারের শব্দসীমা সংক্রান্ত বিধি কার্যকর করতে গিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল আসানসোলের রেলপাড় এলাকা। সরকারি নির্দেশিকার বার্তা দিতে গিয়ে আচমকাই দুষ্কৃতী হামলার মুখে পড়তে হলো পুলিশকে। আসানসোল উত্তর থানা এলাকার জাহাঙ্গির মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও ইটবৃষ্টির ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৈঠকের মাঝেই অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর
ঘটনার সূত্রপাত ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকারের শব্দসীমা বজায় রাখার সরকারি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে। নিয়ম অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল প্রশাসন। সেই বার্তা পৌঁছে দিতে এবং স্থানীয় মন্দির ও মসজিদ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করতে রেলপাড় এলাকায় যান পুলিশ আধিকারিকরা। আলোচনা চলাকালীনই একদল দুষ্কৃতী আচমকা জাহাঙ্গির মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে চড়াও হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে দেদার ইটবৃষ্টি শুরু করার পাশাপাশি ফাঁড়ির ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি পুলিশ ও সাধারণ মানুষের গাড়িও। উত্তেজনার জেরে মুহূর্তের মধ্যে ওই এলাকার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল বাহিনী এবং র্যাফ (RAF) ঘটনাস্থলে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর বার্তা
এই হামলায় অন্তত পাঁচজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, জমায়েত থেকে হঠাৎ পাথর ছোড়া শুরু হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রত্যেক হামলাকারীকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল সাফ জানিয়েছেন যে, রাজ্যে আইন কঠোরভাবে লাগু করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের দোহাই দিয়ে জনমানসে অসুবিধা তৈরি করা বা শব্দদূষণ ঘটানো বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ আর ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে থাকবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। মূলত সরকারি নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি এবং উসকানির কারণেই এই অনভিপ্রেত সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।