চাকরি ছাড়ার হিড়িক লেগেছে, কারণটা জানুন

আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতির অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং বাধ্যতামূলক সামাজিকীকরণের কারণে জাপানে চাকরি ছাড়ার এক অভূতপূর্ব হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জীবনের শান্তি, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং কাজের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে দেশটির বহু পেশাজীবী এখন কর্পোরেট জীবন ছেড়ে আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকছেন। এই মানসিক চাপ থেকে বাঁচতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন বৌদ্ধ ভিক্ষুর জীবন, যা জাপানের শ্রমবাজার ও সমাজ ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রার পরিবর্তন আনছে।
মানসিক শান্তির খোঁজে ‘সুকুবা’
জাপানের বৌদ্ধ মঠগুলিতে ফোন ছাড়া সম্পূর্ণ নীরবতায় আধ্যাত্মিক সময় কাটানোর এই স্বল্পমেয়াদি সন্ন্যাসজীবনকে জাজল ভাষায় ‘সুকুবা’ বলা হয়। সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনগুলোর পর ছুটির দিনগুলিতেও অনেকে এখন এই শান্তির পথ বেছে নিচ্ছেন। প্রতিদিনের চেনা চারকোল স্যুট আর ল্যাপটপের দুনিয়া থেকে বেরিয়ে এসে মানুষ মঠের শান্ত পরিবেশে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কাজের অতিরিক্ত বোঝা এবং সামাজিক বাধ্যবাধকতার কারণে জাজল তরুণ ও মধ্যবয়সী পেশাজীবীদের মধ্যে বিষণ্ণতা ও মানসিক অবসাদ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতেই অনেকে চাকরি ছেড়ে পুরোদমে মঠের জীবন বেছে নিচ্ছেন। এই প্রবণতার কারণে দেশটির বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবলের সংকট তৈরি হতে পারে, যা জাপানের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করছে।
এক ঝলকে
- কাজের অতিরিক্ত চাপ ও বাধ্যতামূলক সামাজিকীকরণের কারণে জাজলদের মধ্যে চাকরি ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে
- মানসিক প্রশান্তির খোঁজে কর্পোরেট জীবন ছেড়ে অনেকেই বৌদ্ধ ভিক্ষুর জীবন বেছে নিচ্ছেন
- ফোনবিহীন ও সম্পূর্ণ নীরবতার এই স্বল্পমেয়াদি সন্ন্যাসজীবন জাপানে ‘সুকুবা’ নামে পরিচিত
- এই প্রবণতার ফলে জাপানের কর্পোরেট ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষ কর্মীর অভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে