খেজুরিতে আক্রান্ত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, বিজেপির বিজয় মিছিল থেকে গাড়িতে হামলার অভিযোগ

ভোট পরবর্তী অশান্তিতে দীর্ণ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরিতে আক্রান্ত হলেন খোদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। খেজুরির হিজলি এবং বিদ্যাপীঠ এলাকায় ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়ে কোলাঘাটের দিকে ফেরার পথে তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগের তির সরাসরি বিজেপির বিজয় মিছিলের দিকে। হামলায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির গাড়িসহ কংগ্রেস নেতৃত্বের মোট তিনটি গাড়ির কাচ লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে খেজুরি ও হেড়িয়া এলাকায়।
ত্রাণ বিলি করে ফেরার পথেই হামলা
কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, খেজুরির আক্রান্ত ও ঘরছাড়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে রবিবার সকালেই সেখানে গিয়েছিলেন শুভঙ্কর সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলে এবং ত্রাণ বিলি শেষে বিকেলের দিকে যখন তাঁর কনভয় মারিশদা থানার অন্তর্গত হেড়িয়া-খেজুরি সড়ক ধরে ফিরছিল, ঠিক তখনই উল্টো দিক থেকে বিজেপির একটি বিশাল বিজয় মিছিল আসছিল।
কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, শুভঙ্কর সরকারের গাড়িটি দেখেই মিছিলে থাকা একদল উত্তেজিত বিজেপি কর্মী লাঠি, বাঁশ এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে আচমকা কনভয়ের ওপর চড়াও হয়।
- কনভয়ে ভাঙচুর: হামলাকারীরা স্লোগান দিতে দিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন ও জানালার কাচ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
- নেতাদের গাড়ি টার্গেট: শুভঙ্কর সরকারের গাড়ির ঠিক পেছনে থাকা বাকি দুটি গাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। অল্পের জন্য বড়সড় শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পান স্বয়ং শুভঙ্কর সরকার ও তাঁর সঙ্গে থাকা দলীয় কর্মীরা।
হেড়িয়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস কর্মীরা। কনভয় সোজা নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হেড়িয়া পুলিশ ফাঁড়িতে। সেখানে দাঁড়িয়েই এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বিজেপির স্থানীয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
ঘটনার পর শুভঙ্কর সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও রাজনীতির হিংসাশ্রয়ী সংস্কৃতি যে বিন্দুমাত্র বদলায়নি, এই হামলা তারই প্রমাণ। আমরা আক্রান্ত মানুষের কাছে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে এভাবে কাপুরুষের মতো লাঠিসোঁটা নিয়ে কংগ্রেসের ওপর হামলা চালানো এবং গাড়ি ভাঙচুর করা কোনো সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ হতে পারে না। আমি পুলিশকে বলেছি অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে।”
অভিযোগ অস্বীকার বিজেপির
অন্যদিকে, কংগ্রেসের তোলা এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির দাবি, এটি দলের কোনো পরিকল্পিত হামলা নয়। ওই রাস্তায় বিজেপির একটি স্বতঃস্ফূর্ত অভিনন্দন যাত্রা চলছিল। কংগ্রেস নেতৃত্বই অযথা উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছিল এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আড়াল করতেই এখন বিজেপির ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এই হাই-প্রোফাইল হামলার ঘটনার পর এলাকায় নতুন করে যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য হেড়িয়া ও খেজুরি সংলগ্ন রাস্তায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।