‘একেনবাবুর মাথায় চুল গজাতে পারে, তৃণমূল আর ক্ষমতায় ফিরবে না’, ফলতায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের অস্তিত্ব শেষের দাবি শমীকের

বাংলায় মে মাসের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসকে চাঙ্গা করতে যখন কালীঘাটে একের পর এক বৈঠক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই জোড়া-ফুল শিবিরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ফলতার মাটি থেকে চরম ও নজিরবিহীন ভবিষ্যদ্বাণী করলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এক নির্বাচনী প্রচার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের চেনা শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে শমীক দাবি করেন, আগামী দিনে এই রাজ্যে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামের কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
একেনবাবু থেকে গঙ্গার জল, রসাত্মক শ্লেষে আক্রমণ
বিজেপি সভাপতি মঞ্চ থেকে স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যে তৃণমূলের পতন কোনো সাময়িক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি স্থায়ী রাজনৈতিক অবসান। তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর সমস্ত আশাকে নস্যাৎ করতে গিয়ে একাধিক কাল্পনিক উদাহরণ টেনে শমীক ভট্টাচার্য বলেন:
“আমি আপনাদের পরিষ্কার বলে দিয়ে যাচ্ছি—গঙ্গার জল রাইটার্স বিল্ডিংয়ের দোতলায় পৌঁছে যেতে পারে, আকাশ ভেঙে নবান্নের ছাদে নেমে আসতে পারে, এমনকি ওটিটি পর্দার বিখ্যাত চরিত্র ‘একেনবাবু’-র মাথায় নতুন করে চুলও গজাতে পারে, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস আর কোনোদিনও এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারবে না।”
‘তৃণমূল চলে গিয়েছে, চলে যাচ্ছে’
বিগত এক বছর ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ডায়মন্ড হারবার উপকূলবর্তী এলাকায় বিজেপির রাজনৈতিক জমি তৈরি করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শমীক জানান, তিনি অনেক আগেই এই পতনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন:
- পূর্বাভাস মিলে গিয়েছে: “ঠিক এক বছর আগে আমি এই ফলতার বুথ স্তরের কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম—তৃণমূল চলে গিয়েছে, তৃণমূল চলে যাবে, তৃণমূল চলে যাচ্ছে। আজ রাজ্যের ফলাফলেই তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত।”
- পতাকা ও ছবি উধাও: বিজেপি সভাপতির দাবি, মে মাসে সরকার হাতছাড়া হতেই রাজ্যের গ্রামে-গঞ্জে তৃণমূলের আর কোনো ঝান্ডা বা পোস্টার দেখা যাচ্ছে না। ভয় এবং দুর্নীতির যে সাম্রাজ্য তৈরি হয়েছিল, তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।
- দল অস্তিত্বহীন হবে: আগামী দিনে পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পরবর্তী যেকোনো স্তরের নির্বাচন যখনই হবে, তখন ইভিএম (EVM) বা ব্যালটে তৃণমূল নামের কোনো দলের নামই আর থাকবে না বলে দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার খাসতালুকে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর পর শমীক ভট্টাচার্যের এই লাগাতার আক্রমণ আসলে তৃণমূলের প্রধান ভোটব্যাংক ও দুর্ভেদ্য দুর্গে বড়সড় ফাটল ধরানোরই একটি সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। শমীকের এই ঝাঁঝালো ও রসাত্মক বক্তব্য এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা তৈরি করেছে।