কেরলে কংগ্রেসের ‘মহা-প্রত্যাবর্তন’! সতীশনের শপথের দিনে ভাঙল ৬০ বছরের রেকর্ড
কেরলের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে রাজ্যের ত্রয়োদশ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন কংগ্রেস নেতা ভিডি সতীশন। সোমবার তিরুবনন্তপুরমের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তাঁকে ও তাঁর ২০ সদস্যের মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এই শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এক দশক পর কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) রাজ্যে ফের ক্ষমতায় ফিরল। অনুষ্ঠানটিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখরও উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহাসিক জয় এবং রাজনৈতিক পালাবদল
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৪০টি আসনের মধ্যে ১০২টি আসনে বিপুল জয় পেয়ে বামপন্থী এলডিএফ জোটের টানা দশ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে ইউডিএফ। ছয়বারের বিধায়ক এবং বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীশনকে এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রধান স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কেসি ভেনুগোপাল ও রমেশ চেন্নিথালার মতো শীর্ষ রাজ্য নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সতীশনকে সর্বসম্মতিক্রমে কংগ্রেস বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়, যা রাজ্যে কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
একই দিনে সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভার নতুন রেকর্ড
প্রায় ছয় দশকের মধ্যে কেরলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভা একই দিনে একসাথে শপথ গ্রহণ করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল। ২১ সদস্যের এই নতুন মন্ত্রিসভাকে কেরলের রাজনীতিতে একটি বড় ‘প্রজন্মগত পরিবর্তন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ মুখ্যমন্ত্রীসহ এই তালিকায় ১৪ জনই একেবারে নতুন মুখ। জোটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ইউডিএফ-এর প্রধান সহযোগী আইইউএমএল পেয়েছে পাঁচটি মন্ত্রী পদ এবং কেরল কংগ্রেসের উপদলসহ অন্যান্য শরিক দলগুলোকেও মন্ত্রিসভায় যোগ্য প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হয়েছে।
দফতর বণ্টন এবং আগামী দিনের প্রভাব
প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ মজবুত রাখতে মুখ্যমন্ত্রী সতীশন অর্থ ও বন্দর-এর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলো নিজের কাছেই রাখছেন। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিথালা স্বরাষ্ট্র ও ভিজিল্যান্স এবং কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি সানি জোসেফ ভূমি রাজস্ব বিভাগের দায়িত্ব পেতে চলেছেন। তরুণ ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণে তৈরি এই নতুন সরকারের হাত ধরে কেরলের উন্নয়ন ও রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- কেরলের ত্রয়োদশ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ছয়বারের বিধায়ক ও ইউডিএফের প্রধান স্থপতি ভিডি সতীশন।
- ১৪০টি আসনের বিধানসভা নির্বাচনে ১০২টি আসন জিতে এক দশক পর ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ।
- প্রায় ৬০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কেরলে ২১ সদস্যের একটি সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভা একই দিনে একসাথে শপথ নেওয়ার রেকর্ড গড়ল।
- নতুন মন্ত্রিসভায় ব্যাপক প্রজন্মগত পরিবর্তন এনে ১৪ জন নতুন মুখকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।