মৃত্যুর পরেও বিমানের স্টিয়ারিংয়ে হাত! আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে শিউরে ওঠার মতো তথ্য

শেষ মুহূর্তেও বিমানটি বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন পাইলট? আমেদাবাদে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (AI-171) ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে এবার উঠে এলো এমনই এক শিউরে ওঠার মতো তথ্য। গত ২০২৫ সালের ১২ জুনের সেই অভিশপ্ত দিনে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মর্গে নিহতদের দেহ শনাক্ত করতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা পাইলটের যে অবস্থা দেখেছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।
নিহতদের দেহ শনাক্ত করতে মর্গে ঢোকা রোমিন ভোহরা নামের এক ব্যক্তি জানান, ককপিট থেকে উদ্ধার হওয়া পাইলটের দেহটি তখনও বসার ভঙ্গিতে অবিকল ছিল। তাঁর হাত দুটি এমনভাবে পজিশন করা ছিল, যেন তিনি মৃত্যুর কোল ঢলে পড়ার আগের মুহূর্তেও বিমানের স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতা ও তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মৃত্যুর পরেও পাইলটের শরীরের পেশি বা ভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
দুর্ঘটনার কারণ ও ভয়াবহ প্রভাব
প্রাথমিক তদন্তে প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টিকে এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। মাঝ আকাশ থেকে তীব্র গতিতে বিমানটি নিচে ভেঙে পড়ায় ককপিটের ভেতরে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলট শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত বিমানটিকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করায় তাঁর শরীর ওই নির্দিষ্ট ভঙ্গিতেই জমে যায়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে তীব্র পেশী সংকোচন বলা যেতে পারে।
এই নজিরবিহীন ও ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রী ও বিমানকর্মী এবং মাটিতে থাকা একটি হোস্টেলের ১৯ জনসহ মোট ২৬০ জনের নির্মম মৃত্যু হয়। বিমানটি একটি আবাসিক হোস্টেলের ওপর ভেঙে পড়ায় প্রাণহানির সংখ্যা এতটা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পাইলটদের ভূমিকার বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ২০২৫ সালের ১২ জুন আমেদাবাদে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI-171 বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
- দুর্ঘটনায় বিমানের যাত্রী, কর্মী এবং হোস্টেলের বাসিন্দা সহ মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়।
- তদন্তে জানা গেছে, মৃত্যুর মুহূর্তেও পাইলট বিমানটি বাঁচানোর জন্য স্টিয়ারিং ধরে বসার ভঙ্গিতে ছিলেন।
- প্রত্যক্ষদর্শী রোমিন ভোহরা মর্গে দেহ শনাক্ত করতে গিয়ে পাইলটের এই শিউরে ওঠার মতো অবস্থা দেখতে পান।