পদ হারিয়েই কেন্দ্রের বৃত্তে কাকলি, দলবদলের জল্পনায় নতুন মাত্রা!

লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ হারানোর পর ‘চার দশকের আনুগত্য’-র ফেসবুক পোস্ট ঘিরে যে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই এবার নতুন করে চর্চায় বারাসাতের সাংসদ ডা. কাকলি ঘোষদস্তিদার। দলীয় পদ খোয়ানোর ঠিক পরপরই এবার কেন্দ্রীয় সিআইএসএফের নিরাপত্তা পাচ্ছেন তিনি। আর সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ক্ষোভ ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে এই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টি মিলিয়ে দেখছেন অনেকেই।
২০০৯ সাল থেকে টানা সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের পরিচিত মুখ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেত্রী হিসাবে পরিচিত। গত ১৫ মে কালীঘাটে তৃণমূল সাংসদদের বৈঠকের পর লোকসভায় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরানো হয় কাকলিকে। তাঁর জায়গায় ফেরানো হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই সিদ্ধান্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে কার্যত বিস্ফোরক পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’ তৃণমূল সাংসদ একা নন, কয়েকদিন আগেই সামাজিক মাধ্যমে দলের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন কাকলির ছেলেও।
অসন্তোষের জের ও নতুন সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন দলে থেকেও হঠাৎ পদ খোয়ানো এবং সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভপ্রকাশের পরপরই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ বা বিশেষ কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলে কেন্দ্রের তরফ থেকে এই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়ে থাকে। কাকলি ঘোষদস্তিদারের দিল্লির প্রশাসনিক মহলে পুরনো যোগাযোগ থাকায় এই পদক্ষেপের পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা দলবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আপাতত এই বিষয়ে ডা. কাকলি ঘোষদস্তিদার নিজে ধোঁয়াশা বজায় রেখে জানিয়েছেন যে তাঁর এই বিষয়ে কিছু জানা নেই। অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূলের তরফ থেকেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে এই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার ঘটনা যে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।