তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতেই রমরমিয়ে চলছিল মধুচক্র, বনগাঁর প্রভাবশালী নেতাকে হাতেনাতে ধরল পুলিশ!

বনগাঁ পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুকুমার রায়ের বাড়িতে মধুচক্র চালানোর অভিযোগে সোমবার রাতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচপোতা এলাকায় কাউন্সিলরের বাড়িতে আচমকা হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে কাউন্সিলর সুকুমার রায় সহ দুই মহিলা ও এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই বেআইনি কাজের শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা খতিয়ে দেখে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তপ্ত রাজ্য রাজনীতি ও বিরোধীদের তোপ
এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেছে। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, শাসকদলের একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বাড়িতে এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ প্রমাণ করে যে তৃণমূলের আমলে দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে পৌঁছেছে। এই ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
রাজ্যজুড়ে একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার
শুধু বনগাঁ নয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর ও প্রভাবশালী নেতা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। সোমবার মধ্যরাতেই বিধাননগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডলকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ। অভিযোগ, কেষ্টপুর এলাকায় একটি দোকান সংস্কারের জন্য লক্ষাধিক টাকা কাটমানি দাবি করেছিলেন তিনি। ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকার করায় কাজ আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এর পাশাপাশি বর্ধমানে তোলাবাজির অভিযোগে এক কাউন্সিলর, দাসপুরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের ছেলে, গুড়াপ ও দুর্গাপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক ব্লক সভাপতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি রবিবার মধ্যরাতে অস্ত্র আইনে গ্রেফতার হয়েছেন পলাতক বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের ছেলেও। একের পর এক জনপ্রতিনিধি ও নেতার এভাবে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা শাসকদলের ভাবমূর্তিকে যেমন কালিমালিপ্ত করছে, তেমনই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে বিরোধীদের হাত আরও শক্ত করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।