জমি বিবাদে মালদায় সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে বেধড়ক মারধর, কাঠগড়ায় পলাতক সিভিক ভলান্টিয়ার!

রাজ্যে সরকার বদল হলেও সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশের দৌরাত্ম্য ও দাদাগিরি থামার কোনো লক্ষণ নেই। জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা এবং তাঁর পঞ্চাশ বছর বয়সী মেয়েকে নির্মমভাবে মারধর ও হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। মালদা জেলার ইংরেজবাজার থানার চণ্ডীপুর অঞ্চলের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম মহম্মদ ইলিয়াস। ঘটনার পর থেকেই সে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও নৃশংস অত্যাচার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চণ্ডীপুর অঞ্চলের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে রাস্তার ধারে পূর্ত দফতরের একটি জায়গায় ছোট্ট ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। অভিযোগ, সম্প্রতি সিভিক ভলান্টিয়ার মহম্মদ ইলিয়াসের নেতৃত্বে কয়েকজন দুষ্কৃতী ওই জায়গাটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে এবং বৃদ্ধাকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়। বৃদ্ধা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই অভিযুক্তরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এই সময় মাকে বাঁচাতে তাঁর মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে মারধর ও বিবস্ত্র করে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে আক্রান্ত পরিবারটি চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, কারণ ঘটনার পর থেকেই তাদের লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশি তদন্ত ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্ন
তৃণমূল কংগ্রেস আমলেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ উঠেছিল। নতুন সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ পরিস্থিতির পরিবর্তনের আশা করলেও, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে খোলস বদলালেও স্বভাব বদলায়নি কিছু কর্মীর। এই নৃশংস ঘটনার পর আক্রান্ত পরিবারটি ইংরেজবাজার থানা এবং মালদা জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিংয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মহম্মদ ইলিয়াস পলাতক থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অসহায় পরিবারটি এখন প্রশাসনের কাছ থেকে নিরাপত্তা এবং উপযুক্ত বিচারের আশায় দিন গুনছে।