৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদ-ঘনিষ্ঠ দেবলীনা বিশ্বাসের, ‘সম্পূর্ণ দলগত কারণ’ ঘিরে জল্পনা

কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১টি সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান নিয়ে কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে নোটিশ পাঠানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওই বরো এলাকায় ঘটে গেল এক চরম নাটকীয় ঘটনা। শহরের ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দিলেন কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দেবলীনা বিশ্বাস। মঙ্গলবারই তিনি নিজের পদত্যাগপত্র মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে পাঠিয়েছেন বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভা (KMC) যখন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একগুচ্ছ সম্পত্তির ফাইল খুলে নোটিশ পাঠাতে শুরু করেছে, ঠিক সেই আবহেই ৯ নম্বর বোরো প্রধানের এই আকস্মিক ইস্তফা রাজ্য রাজনীতিতে মস্ত বড় জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
শুধুমাত্র কাউন্সিলর হিসেবেই থাকতে চাই, সাফাই দেবলীনার
চেয়ারপার্সনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন দেবলীনা বিশ্বাস। নিজের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রকম ব্যক্তিগত কোন্দল বা প্রশাসনিক চাপের তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন:
“আমি কাউন্সিলর পদেই থাকব এবং এলাকার সাধারণ মানুষের কাজের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতদিন তো বোরো চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব সামলেছি, কিন্তু এখন ওখান থেকে সরে আসছি। আমি যা করছি, সম্পূর্ণ দলগত কারণেই করছি।”
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দেবলীনা বিশ্বাস মুখে একে ‘সম্পূর্ণ দলগত কারণ’ বলে দাবি করলেও, ভেতরের সমীকরণটা অন্য রকম। ৯ নম্বর বোরো এলাকাটি কালীঘাট, হরিশ মুখার্জি রোড এবং ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল অঞ্চল নিয়ে গঠিত। এই বোরো অফিস থেকেই সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান সংক্রান্ত নোটিশগুলি ইস্যু করা হয়েছিল। নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের নির্দেশে পুরসভা যেভাবে অলআউট অ্যাকশনে নেমেছে, তাতে বোরো প্রধান হিসেবে আইনি বা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরেই কি দেবলীনা এই পদক্ষেপ নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি ও সমীকরণের বদল
ফলতা বিধানসভার ভোটযুদ্ধ থেকে বাহুবলী জাহাঙ্গির খানের পিছু হটে যাওয়া, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারি— এই একের পর এক ধাক্কার মাঝেই এবার খোদ কলকাতা পুরসভার অন্দরে ফাটল ধরায় চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। একদিকে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের জমানায় তাঁরই ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরের এই ইস্তফা দেওয়া এবং অন্যদিকে নতুন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সাঁড়াশি চাপ— সব মিলিয়ে পুর প্রশাসনের অন্দরেও যে বিগত জমানার রাশ আলগা হতে শুরু করেছে, তা বলাই বাহুল্য। দেবলীনা বিশ্বাসের এই পদত্যাগপত্র মেয়র শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করেন কি না এবং ৯ নম্বর বোরোর পরবর্তী প্রধান হিসেবে কে দায়িত্ব নেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।