কালীঘাটের বৈঠকে অনুপস্থিত ১৫ বিধায়ক, কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সঙ্গে দেখা করতে মতিবুরের দিল্লি সফর ঘিরে তীব্র জল্পনা

কালীঘাটের বৈঠকে অনুপস্থিত ১৫ বিধায়ক, কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সঙ্গে দেখা করতে মতিবুরের দিল্লি সফর ঘিরে তীব্র জল্পনা

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন ও দলবদলের জল্পনা এবার আরও তীব্র আকার ধারণ করল। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা কালীঘাটের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে দলের ১৫ জন বিধায়ক অনুপস্থিত থাকায় রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ১৫ জনের মধ্যে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমানের অনুপস্থিতি এবং তাঁর আকস্মিক দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ঘাসফুল শিবিরে নতুন করে বড়সড় ফাটলের জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান— তৃণমূল ছেড়ে এবার কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন মালদার এই প্রভাবশালী নেতা।

শারীরিক কারণ বনাম দিল্লির ‘গোপন’ মিশন

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীঘাটের ওই মেগা বৈঠকে যে ১৫ জন বিধায়ক গরহাজির ছিলেন, তাঁদের মধ্যে সাতজন লিখিত বা মৌখিকভাবে নেতৃত্বকে জানিয়েছেন যে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁরা উপস্থিত হতে পারেননি। তবে নজর কেড়েছে হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক মতিবুর রহমানের যুক্তি। দলীয় নেতৃত্বকে তিনি জানিয়েছেন যে, একটি বিশেষ কাজে তিনি বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বড় অংশের দাবি, মতিবুর রহমানের এই দিল্লি সফরের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। চাউর হয়েছে যে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে মালদা তথা উত্তরবঙ্গে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক পুনরুত্থানের আবহে তিনি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দলবদলের চূড়ান্ত কথাবার্তা বলতেই হাইকম্যান্ডের দরবারে হাজির হয়েছেন।

মালদার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত

বিগত জমানায় মালদা জেলা একসময় গণিখান চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসের অবিসংবাদিত দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। পরে তৃণমূল সেখানে থাবা বসালেও, ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর এবং শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জিরো টলারেন্স অ্যাকশনের আবহে জেলা স্তরের বহু নেতাই এখন নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পুরোনো ডেরায় ফেরার তোড়জোড় শুরু করেছেন।

যদিও এই দলবদল বা কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনা নিয়ে মতিবুর রহমান বা কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের পর যেখানে সুজিত বসু, দেবরাজ চক্রবর্তীদের মতো নেতারা ইডির জালে জড়াচ্ছেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির খতিয়ান নিয়ে পুরসভা নোটিশ পাঠাচ্ছে, সেই ডামাডোলের মাঝে মতিবুরের এই দিল্লি যাত্রা তৃণমূলের অন্দরের গভীর অস্বস্তিকে আবারও প্রকাশ করে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *