৩৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে স্পেশাল অডিট রাজ্য সরকারের

দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে পঞ্চায়েত স্তরে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নবান্ন! রাজ্যের ৩৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদে একযোগে স্পেশাল বা বিশেষ অডিট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মূলত তৃণমূল জমানায় ১০০ দিনের কাজ এবং গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ টাকা নয়ছয় রুখতেই এই চরম পদক্ষেপ। একই সঙ্গে গ্রামীণ স্তরে যেকোনো ধরণের কাটমানি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে স্বচ্ছতা ফেরাতে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি নিয়েছে প্রশাসন।
কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি ও নতুন হেল্পলাইন
পঞ্চায়েত স্তরের এই অডিট প্রক্রিয়ায় যেকোনো আর্থিক অনিয়ম বা গরমিল সামনে এলে রেয়াত করা হবে না কাউকেই। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান কিংবা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের (বিডিও) বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি দমনে আমজনতার অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য একটি চার ডিজিটের নতুন হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হচ্ছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণ স্তরের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম ও কাটমানি নেওয়ার ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছিল। কেন্দ্রীয় বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতেই এই বিশেষ অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি আধিকারিকদের জবাবদিহিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই সরকারি তহবিলের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।
এক ঝলকে
- দুর্নীতি ও কাটমানি রুখতে রাজ্যের ৩৩৩৯টি পঞ্চায়েত স্তরে স্পেশাল অডিট করাচ্ছে রাজ্য সরকার।
- ১০০ দিনের কাজ এবং গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের টাকা নয়ছয় রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে।
- দোষী পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান বা বিডিওদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
- সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানাতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি চার ডিজিটের নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু হচ্ছে।