মধ্যরাতে ধুন্ধুমার! পুলিশের জালে কি এবার অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী?

তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা তথা রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁকে পুলিশ বা কোনো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আটক অথবা গ্রেপ্তার করেছে বলে তীব্র জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উত্তর ২৪ পরগনার এই দাপুটে নেতার অবস্থান নিয়ে এখন প্রবল শোরগোল সমাজমাধ্যমে। যদিও বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ কিংবা কোনো তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য মেলেনি।
তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগের তীর
রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, তোলাবাজি, এলাকা দখল এবং আর্থিক দুর্নীতিসহ একাধিক পুরনো মামলায় জড়িয়েছে দেবরাজের নাম। বিগত বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও বিরোধীদের ওপর আক্রমণ ও সিন্ডিকেট রাজ চালানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছিল বিজেপি। সাম্প্রতিক পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও দক্ষিণ দমদম পুরসভার সূত্র ধরে তাঁর নাম নিয়ে আলোচনা চলছিল। মঙ্গলবার রাতে এই প্রভাবশালী নেতাকে আটক করে ভবানীভবনে নিয়ে গিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে গুঞ্জন ছড়ায়, যা পরবর্তীতে গ্রেপ্তারের জল্পনায় রূপ নেয়।
তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিজেপির বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পাপ বিদায়’ লিখে পোস্ট করার পর থেকেই এই জল্পনা আরও গতি পায়। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি নেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেপ্তারি এবং এবার দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পাওয়ার দিন শেষ। এই ঘটনার জেরে উত্তর ২৪ পরগনা তথা কলকাতার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের তৃণমূল সংগঠনে বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।