অভিষেকের বাড়ি ভাঙার নোটিসে তোলপাড়, মেয়রের অজান্তেই কি হাতছাড়া হচ্ছে পুরসভার নিয়ন্ত্রণ!

খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ভাঙার নোটিস ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। কলকাতার শান্তিনিকেতন ও কালীঘাটের দুটি বাড়িতে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার তরফেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ হয়ে থাকলে তা অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় পুরসভাই তা ভেঙে দেবে বলে নোটিসে জানানো হয়। খোদ দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বাড়িতে এই ধরনের নোটিস যাওয়ার ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন, যা পুরসভার অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
মেয়রের অজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক টানাপোড়েন
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন কলকাতার পুরপ্রধান ফিরহাদ হাকিম। সূত্রের খবর, সোমবার পুরসভার মেয়র ও মেয়র পারিষদদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি অভিষেকের বাড়িতে নোটিস পাঠানোর বিষয়ে ফিরহাদের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন এবং নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। জবাবে মেয়র ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন, এই নোটিসের বিষয়ে তিনি বিন্দুমাত্র কিছুই জানতেন না এবং তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, কলকাতা পুর আইনের ৪০১ ধারায় এই নোটিস পাঠানো হয়েছে, যেখানে পুর কমিশনার চাইলে মেয়রের অনুমতি ছাড়াই নিজের ক্ষমতাবলে নোটিস ইস্যু করতে পারেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ
মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, রাজ্যে কোনো বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বুলডোজার অভিযান শুরু হয়েছে। এই আবহে অভিষেকের বাড়িতে নোটিস যাওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এতদিন পর কেন পুরসভার ঘুম ভাঙল, তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই পুরপ্রধানকে এড়িয়ে এই ধরনের পদক্ষেপের কারণে দলের ভেতরে ও প্রশাসনিক স্তরে ফাটল আরও স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পুরসভার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হয়তো ক্রমশ বর্তমান শাসকদলের হাত থেকে ফস্কে যাচ্ছে।