রাজ্য হারিয়ে এবার দিল্লি দখলের ডাক, কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের পতন দেখছেন মমতা!

দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে পদ্ম শিবির ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সুর চড়াচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলে এবার লোকসভা তথা কেন্দ্রের শাসকদলকে নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে ক্ষমতা দখল করলেও আগামী দিনে দিল্লিতে আর টিকবে না বিজেপি সরকার। খুব দ্রুতই তারা কেন্দ্র থেকে ক্ষমতাচ্যুত হবে।
আক্রমণের তির এবার কেন্দ্রের দিকে
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের বাসভবনে প্রথমবার দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বর্তমান সরকার দেশের সাংবিধানিক আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এই পরিস্থিতি বেশিদিন চলবে না দাবি করে তিনি স্পষ্ট জানান, দিল্লির মসনদ থেকে খুব শীঘ্রই বিজেপির বিদায় ঘণ্টা বাজবে। কেন্দ্রের পাশাপাশি নবগঠিত রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ফুটপাথের হকারদের ইচ্ছাকৃতভাবে হেনস্থা ও টার্গেট করা হচ্ছে।
বুলডোজার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে ঘাসফুল
ভোটের ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এখন নতুন করে বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের সংগঠিত করতে মরিয়া। রাজ্য সরকারের উচ্ছেদ নীতির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। দলীয় সূত্রের খবর, আগামী ২১ মে হাওড়া, শিয়ালদা এবং বালিগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে ঘাসফুল শিবির। পুনর্বাসন না দিয়ে গরিব হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করার যে ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ বিজেপি শুরু করেছে, তার বিরুদ্ধেই এই আন্দোলন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হকার উচ্ছেদের মতো সংবেদনশীল ইস্যুকে সামনে রেখে তৃণমূল রাজ্যে নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার এবং প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে জনমানসে প্রভাব তৈরি করার কৌশল নিয়েছে।