‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নীতিতে বাঁচবে ৭ লক্ষ কোটি টাকা, জিডিপি বাড়বে ১.৬%! যৌথ সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সনের মেগা দাবি

‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নীতিতে বাঁচবে ৭ লক্ষ কোটি টাকা, জিডিপি বাড়বে ১.৬%! যৌথ সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সনের মেগা দাবি

‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ (One Nation, One Election) নীতি কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক উন্নয়নে কতটা জোরালো প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে এবার এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন খতিয়ান সামনে আনলেন এ সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটির (JPC) চেয়ারপার্সন তথা সাংসদ প্রেমপ্রকাশ চৌধুরী। তাঁর দাবি, এই ঐতিহাসিক নির্বাচনী সংস্কার বাস্তবায়িত হলে ভারতের রাজকোষের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। একই সাথে দেশের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার এক ধাক্কায় ১.৬% শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেপিসি চেয়ারপার্সন এই মেগা পরিকল্পনার আইনি ও প্রশাসনিক রোডম্যাপ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

কোবিন্দ কমিটির সুপারিশ মেনেই হবে ভোট, ওলটপালট হবে নির্বাচনী ক্যালেন্ডার

প্রেমপ্রকাশ চৌধুরী জানান, এই বিশাল সাশ্রয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার জন্য হুট করে নয়, বরং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির দেওয়া সুপারিশ মেনেই ধাপে ধাপে এগোবে কেন্দ্র।

জেপিসি চেয়ারপার্সনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি মূলত দুটি প্রধান ধাপে বাস্তবায়িত হবে:

  • প্রথম ধাপ (লোকসভা ও বিধানসভা): রামনাথ কোবিন্দ কমিটির ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী, প্রথম দফায় দেশের লোকসভা নির্বাচন এবং সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন সম্পূর্ণ সমন্বিত ভাবে অর্থাৎ একই সাথে অনুষ্ঠিত করা হবে।
  • দ্বিতীয় ধাপ (১০০ দিনের ডেডলাইন): লোকসভা ও বিধানসভা ভোট মিটে যাওয়ার ঠিক ১০০ দিনের মধ্যে দেশের সমস্ত স্তরের পঞ্চায়েত এবং পুরসভা বা পুরনিগমের ভোটপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

কেন এত বিপুল টাকা সাশ্রয় আর জিডিপি বৃদ্ধির দাবি?

বর্তমানে ভারতে প্রতি বছরই কোনো না কোনো রাজ্যে বা লোকাল বডিতে নির্বাচন লেগেই থাকে। জেপিসি চেয়ারপার্সনের যুক্তি, বারবার ভোটের কারণে দেশের বিপুল পরিমাণ প্রশাসনিক খরচ, নিরাপত্তা বাহিনীর যাতায়াত এবং লজিস্টিক ব্যয় আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নীতি এলে:

  • বারবার আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) জারি হওয়ার জেরে থমকে থাকা সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ ও নীতি নির্ধারণের গতি সচল থাকবে, যা সরাসরি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
  • নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কালো টাকার যথেচ্ছ ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
  • সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ফোকাস শুধুমাত্র ভোট প্রচারের বদলে স্থায়ী পরিকাঠামো উন্নয়নে দেওয়া সম্ভব হবে, যার ফলেই জিডিপিতে এই ১.৬% প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে।

নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় যখন রাজ্যে একের পর এক বকেয়া পুরসভা ও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই দিল্লির অলিন্দ থেকে জেপিসি চেয়ারপার্সনের এই রোডম্যাপ প্রকাশ ছাব্বিশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *