গড়িয়া শ্মশানে পাবলিক শৌচাগারের সামনে উলঙ্গ শিশুদের মূর্তি! ‘মমতার অনুপ্রেরণা’ প্রকল্পকে তীব্র খোঁচা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

গড়িয়া শ্মশানে পাবলিক শৌচাগারের সামনে উলঙ্গ শিশুদের মূর্তি! ‘মমতার অনুপ্রেরণা’ প্রকল্পকে তীব্র খোঁচা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

বাঁশদ্রোণী ও গড়িয়া শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণে কলকাতা পুরসভার বুলডোজার চলার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার সেই গড়িয়া এলাকাতেই বিগত তৃণমূল সরকারের ‘অনুপ্রেরণা’ প্রকল্পকে ঘিরে এক নজিরবিহীন ও চরম সুরুচি-বিতর্ক তৈরি হলো। গড়িয়া শ্মশানের সামনে অবস্থিত একটি পাবলিক শৌচাগারের (Public Toilet) নকশা এবং তার সামনে বসানো উলঙ্গ শিশুদের শৌচকর্মের মূর্তি নিয়ে এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ী সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর কলকাতা পুরসভা যখন একের পর এক পুরোনো ফাইলের জট খুলছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ কলকাতার এই হাই-প্রোফাইল শৌচাগারটির ফলক ও তার শিল্পকলা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

‘মমতার অনুপ্রেরণা ও অরূপ বিশ্বাসের উদ্বোধন’, ফলক নিয়ে তরজা

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়িয়া শ্মশানের ঠিক বিপরীতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিগত জমানায় এই পাবলিক শৌচাগারটি তৈরি করা হয়েছিল। শৌচাগারের গায়ের ফলকে স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে— এটি ‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায়’ নির্মিত। শুধু তাই নয়, এই শৌচাগারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন টালিগঞ্জের সদ্য পরাজিত প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

বুধবার ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে শৌচাগারটির সামনে বসানো উলঙ্গ শিশুদের শৌচকর্ম করার ভাস্কর্য বা মূর্তিটি দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বর্তমান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বিদায়ী সরকারের এই ধরনের ‘শিল্পচেতনা’ এবং তাকে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা বলে চালানোকে চরম রুচিহীনতা বলে আখ্যা দেন তিনি।

বিদায়ী সরকারের ‘সুরুচি ও সংস্কৃতি’ নিয়ে অগ্নিমিত্রা পালের তোপ

গড়িয়া শ্মশানের মতো একটি সংবেদনশীল ও পবিত্র স্থানে এই ধরনের মূর্তি বসানো নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত চাঁছাছোলা ভাষায় খোঁচা দিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন:

“যাঁরা কথায় কথায় বাংলার সংস্কৃতি আর সুরুচির দোহাই দেন, তাঁদের ‘অনুপ্রেরণা’র আসল নমুনা এই গড়িয়া শ্মশানের সামনে দেখলেই বোঝা যায়। একটা পাবলিক শৌচাগারের সামনে এমন আপত্তিকর এবং উলঙ্গ শিশুদের শৌচকর্মের মূর্তি বসিয়ে সেটাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা বলে ফলক লাগানো হয়েছে! আর এর উদ্বোধক ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং রুচিহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের নোংরা মানসিকতার প্রদর্শন শহরের সৌন্দর্যায়ন নয়, বরং বিকৃতি।”

টালিগঞ্জে পাপিয়া আর গড়িয়ায় অগ্নিমিত্রা, দক্ষিণ কলকাতায় কোণঠাসা ঘাসফুল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের দুর্গে এটি দ্বিতীয় বড় ধাক্কা। আজ সকালেই টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে পা রেখে অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের ‘দাদাগিরি’র অবসান ঘটাতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ করেছিলেন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অরূপ বিশ্বাসের উদ্বোধন করা শৌচাগার প্রকল্পকে ঘিরে খোদ পুরমন্ত্রীর এই আক্রমণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দক্ষিণ কলকাতায় বিগত জমানার প্রতিটি কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে নতুন প্রশাসন।

পুরসভা সূত্রে খবর, এই বিতর্কিত মূর্তিটি সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হবে কি না বা সৌন্দর্যায়নের নামে নতুন কোনো নকশা আনা হবে কি না, তা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *